Sunday, October 24, 2021

আতঙ্কিত জনপদ হাটগ্রাম ও ভেড়ামারায় শান্তি ফিরিয়ে আনে মধু চেয়ারম্যান


বিশেষ প্রতিনিধি
দেড় যুগ আগের কথা। পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সন্ত্রাসীদের (চরমপন্থী) কর্মকাণ্ডের দিশেহারা হয়ে পড়েছিল সাধারন মানুষ। প্রায়ই দিনে দুপুরে ঘটতো মানুষ হত্যার ঘটনা। সমাজের বিত্তশালীদের দিতে হতো নিয়মিত চাঁদা। সাধারণ মানুষ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম আতংকে দিন কাটাতো। দিনে দিনে এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হাটগ্রাম ও চরপাড়া গ্রামে। ধীরে ধীরে শিকড় গাড়তে থাকে সন্ত্রাসী বাহিনীরা। হাটগ্রামের কফিল উদ্দিন ও চরপাড়া গ্রামের মজনু মিয়া সহ অনেকেই চরমপন্থী বাহিনীতে যোগদান করেন। তারা নিয়মিত ভেড়ামারা, হাটগ্রাম চরপাড়া গ্রাম থেকে বিত্তশালীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা নিতেন। চাঁদা না দিলেই মারধর করা সহ ওইসব পরিবারের নারীদের করা হতো নির্যাতন। বড় বিল এলাকা থেকে কৃষকরা নিজের জমির ধান ও পুকুর থেকে মাছ আনতে পারত না। সবকিছু কেড়ে নিতো চরমপন্থী সন্ত্রাসী বাহিনী। ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পেত না। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। সন্ধ্যা হলেই লোকজন ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পড়তো। এই বুঝি সন্ত্রাসী বাহিনীরা এসে কোন দুর্ঘটনা ঘটাবে এমন আতংকে দিন কাটত সব সময়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও কোনভাবেই এই চরমপন্থীদের অত্যাচার থেকে এলাকার মানুষ রেহাই পেত না।



এ অবস্থায় পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মধু এলাকার যুবকদের নিয়ে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন। পরিবার পরিজন ছেড়ে তিনি প্রতিদিন রাত্রে হাটগ্রামের সীমান্তবর্তী রাখসা ব্রিজে রাত কাটাতেন। তার সাথে থাকতেন এলাকার শতাধিক যুবক। বাঁশের লাঠি ও হাসুয়া নিয়ে চরমপন্থী বাহিনীদের পার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে প্রবেশ পথে তিনি বছরের-পর-বছর পাহারা বসিয়ে ইউনিয়নবাসীকে রক্ষা করেছেন। মধু চেয়ারম্যানের কঠোর অবস্থানের ফলে এলাকা ছেড়ে অনেক সন্ত্রাসীরা আত্মগোপন করে। এরপর শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রতিপক্ষের দ্বারা নিহত হয়। 

এভাবে ওই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনে সে সময়ের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মধু। এরপর থেকেই পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের মানুষের চোখের মনি হয়ে ওঠেন তিনি। বিভিন্ন নির্বাচনে প্রতিকূলতার মধ্য থেকেও হাটগ্রাম , ভেড়ামারা সহ অনেক গ্রামের মানুষ তাকে প্রতিটি নির্বাচনে ভালোবেসে সমর্থন দিয়ে আসছেন। এ কারণে গত ৫ বছর দিন মধু চেয়ারম্যান না থাকলেও ওই এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থেকেছেন। মানুষের ভালোবাসায় তিনি পরপর তিনবার জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

হাটগ্রামের বাসিন্দা কোরবান আলী বলেন, মধুর মত চেয়ারম্যান একটি শতাব্দীতে বারবার আসেনা। তাই তিনি প্রার্থী হলে তাকে হারানোর মতো কেউ নেই। এবছরের তিনি প্রার্থী হলে ব্যাপক ভোটে জিতবেন ইনশাল্লাহ।

শেয়ার করুন