Friday, October 1, 2021

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ, অসহায় নুপুরের পাশে ভাঙ্গুড়ার ইউএনও

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু নুপুরের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি নুপুরের দাদা নজরুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। নুপুর পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার  পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের কাঠমিস্ত্রি রতন আলীর মেয়ে ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 



পরিবারের সদস্যরা জানান, গত জুলাই মাসের শুরুতে অসুস্থ হয়ে পড়ে নুপুর। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকরা নুপুরকে চিকিৎসা দিলেও কোনো উন্নতি হয়নি। কয়েকদিন পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন ভাঙ্গুড়া হাসপাতালের চিকিৎসক। রাজশাহী দুই সপ্তাহে অবস্থানকালে পপুলার হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। নুপুরের বাবা রতন এ টাকা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার দেনা করেন। তবে রোগ শনাক্ত না হওয়ায় চিকিৎসক আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। কিন্তু টাকা না থাকায় মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান রতন। এরপর দুই মাস ধরে শয্যাশায়ী হয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল নুপুর। এ অবস্থায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘ নুপুরের বাবাকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে গত সপ্তাহে পুনরায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হলে তা নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামানের। এরপর তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে নুপুরের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। এছাড়া সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে নুপুরের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, গত কয়েকদিনে নুপুরের এমআরআই ও ও সিটি স্ক্যানসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখনো রোগ শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার। এরপর রাজশাহীতে কয়েকদিন ধরে অবস্থান করার কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে নুপুরের বাবা রতন আলী। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের।

নুপুরের বাবা রতন আলী জানান, ভাঙ্গুড়ার ইউএনও স্যারের দেয়া টাকায় নুপুরের এমআরআই-সহ কয়েকটি পরীক্ষা করিয়েছি। এছাড়া কালের কণ্ঠের সংবাদ প্রকাশের পরে ঢাকার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে নুপুরের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান স্যার একজন মানবিক মানুষ। যেকোনো অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি সাধ্যমত পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। সততা, আদর্শ ও মানবিক একজন কর্মকর্তার অধীনে কাজ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, এতোটুকু ছোট্ট বাচ্চা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। সেটি জানার পর থেকেই অসম্ভব খারাপ লাগছে। তাই চেষ্টা করছি সাধ্যমত সহযোগিতা করার।


শেয়ার করুন