Tuesday, September 21, 2021

চিকিৎসা না পেয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে ভাঙ্গুড়ার নুপুর

মাস আগেও নাচ-গান ও খেলাধুলায় সবাইকে মাতিয়ে রাখতো পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুপুর (১০)। অর্থের অভাব থাকলেও কাঠমিস্ত্রি বাবার পরিবারে আনন্দের কমতি ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই নুপুর মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। গত দুই মাস ধরে নুপুর শয্যাশায়ী হয়ে তীব্র শরীরের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা দিতে না পেরে তীব্র মনোকষ্টে ভুগছেন নুপুরের দাদা-দাদি ও মা-বাবা। এমনকি চিকিৎসকের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে না পেরে নুপুরের রোগ শনাক্ত করা যায়নি। এ অবস্থায় পরিবারটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নুপুর পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের কাঠমিস্ত্রি রতন আলীর মেয়ে ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। নুপুরের বাবা রতন আলীর সাথে যোগাযোগের মোবাইল নাম্বার ০১৭৩৯৪৪৯২৩৪।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে তীব্র যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করছে নুপুর। পাশে মা মেয়ের শরীরে হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুতেই নুপুরের যন্ত্রণা কমছে না। বারান্দায় বসে নুপুরের দাদি গুমড়ে গুমড়ে কান্না করছেন। জুলাই মাসের প্রথম দিকে অসুস্থ হয়ে পড়া নুপুরকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দুই সপ্তাহ রেখে রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যার বেশিরভাগই ধারদেনা করতে হয়েছে পরিবারকে। প্রাথমিকভাবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন নুপুরের রক্তে ইনফেকশন বলে ধারণা করেছে। তবে নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করারর জন্য ১৫ হাজার টাকা রতন কোনোভাবেই জোগাড় করতে পারছেন না। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে নুপুরকে স্থানীয় কবিরাজি চিকিৎসা দিচ্ছেন পরিবার। তবে নুপুরের শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। দিনদিন শুকিয়ে আরো মুমূর্ষু হয়ে পড়ছে নুপুর।


নুপুরের দাদা নজরুল ইসলাম বলেন, বসতভিটা ছাড়া তাদের কোনো জমিজমা নেই। অসুস্থতা ও বয়সের ভারে তিনিও আর কাজ করতে পারেন না। তাই কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যা আয় হয় তাই দিয়ে ছয় জনের সংসার চালাতে হয় ছেলে রতনকে। আত্মীয়স্বজনের কাছে ধারদেনা করে টাকা নিয়ে এতদিন নাতনিকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু এখন আর কেউ ধার দিচ্ছে না। গ্রামের মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সে টাকায় রাজশাহী গিয়ে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।


পাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লক্ষ্মী বিশ্বাস বলেন, নুপুর নাচে খুবই পারদর্শী ছিল। বিদ্যালয়ের হয়ে সে উপজেলা পর্যায়ে নাচে অংশগ্রহণ করেছে। পড়াশোনাতেও সে মেধাবী ছিল। শিশুটির এমন অবস্থায় শিক্ষকরা মর্মাহত। তাকে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় নুপুরের চিকিৎসায় অনেক টাকার প্রয়োজন। যা এককভাবে কারোরই বহন করা সম্ভব না।


ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজজমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে শিশুটির চিকিৎসায় সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।



শেয়ার করুন