Monday, July 5, 2021

অক্সিজেনের অভাবে পাবনায় ০৪ করোনা রোগীর মৃত্যু

 পাবনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘন্টায়া ৪ জন করোনা রোগী মারা গেছেন। রবিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১২ টা থেকে সোমবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২ টার মধ্যে  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃতদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসাপাতালের অক্সিজেন সংকটের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের মৃত আলহাজ¦ দায়েন বিশ্বাসের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৭০), ঈশ্বরদীর চরকুরুলিয়া গ্রামের মৃত কোরবান সরকারের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন(৭০), পাবনার শহর এলাকার, নূরে আলম (৬৭), নাজমুল ইসলাম (৭২)।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্বে থাকা একজন সিনিয়র চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পাবনা হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ ব্যপকভাবে বাড়ছে। হাসপাতালে এসেও রোগীদের বাইরে থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তাতেও সংকট কাটছে না। এখন কোন রোগীর থেকে কেড়ে নিয়ে তো অন্যকে দেয়া যায় না। ঘাটতির কারণে ঠিকমত অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারায় রোগীরা মারা গেছেন।

নিহত রাশিদা বেগমের বড় ছেলে মো: আলমগীর হোসাইন বলেন, আমার আম্মাকে রবিবার দুপুরে ঠান্ডা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সদরের করোনা ইউনিটে ভর্তি করেছিলাম। শুরু থেকেই অক্সিজেন সংকট ছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ১০ বার বলার পরও তারা আমার মায়ের জন্য একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়নি। পরিশেষে অক্সিজেন সংকট নিয়েই মায়ের মৃত্যু হলো। তিনি জানান, এ সময় হাসপাতালের প্রতিটি রোগী প্রচন্ড কষ্ট পাচ্ছিল। অক্সিজেনের অভাবে তার সামনে তিনজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। 

তিনি আফসোস করে বলেন, অনেক আশা নিয়ে মাকে নিয়ে হাসপাতালে আসছিলাম, ভেতরে ঢুকেই দেখি ন্যুনতম কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। নার্সরা ঠিকমত ডিউটি করতে আসছে না।

করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর ভাই মামুন হোসেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অনেক ভাল রোগীকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করে রেখেছে। আমার বোনকে ১২ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। পরেরদিন করোনা পরীক্ষার নমুনা দিলে আজ ১১ দিন অতিবাহিত হলেও কোন ফলাফল পাচ্ছিনা। যার কারণে আমাদের রোগী এখন সুস্থ্য হলেও এই ওয়ার্ডে ভর্তি করে রেখেছে।

অক্সিজেন সংকটে মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা: সালেহ মোহাম্মদ আলী বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের অনেকেই হয়ে শেষ সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। আসলে শেষ সময়ে একজন করোনা রোগী হাসপাতালে আসলে কিছু করার থাকে না। যারা মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই করোনা আক্রান্ত হয়ে শেষ সময়ে হাসপাতালে এসেছিল। তিনি জানান, জেনারেল হাসপাতালে সেন্টাল অক্সিজেন চালু না থাকায় অক্সিজেনের ব্যাপক সংকট দেখা দিচ্ছে। মেডিফোল্ড সিস্টেমে বড় বোতলে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে, রোগীর চাপের সাথে পাল্লা দিতে আরো অক্সিজেন প্রয়োজন।


শেয়ার করুন