Tuesday, June 8, 2021

পাবনার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ উপজেলা ভাঙ্গুড়া, বিদায়ী সংবর্ধনায় ডিসি

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

চলনবিল বিধৌত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার আয়তন ১৩৪. ৯ বর্গকিলোমিটার। এই আয়তনে প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার মানুষের বসবাস। জনসংখ্যা ও আয়তনে জেলার সবচেয়ে ছোট উপজেলা এটি। তবে ভৌগলিক, বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল ও গুমানি নদী উপজেলার গ্রাম অঞ্চলকে দিয়েছে নৈস্বর্গিক রুপ। এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো সহ-অবস্থানে মিলেমিশে কাজ করে। এতে জেলার যেকোনো উপজেলার চেয়ে এই উপজেলায় মানুষের মধ্যে হানাহানি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক কম। এ কারণে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মানুষ বসবাসের ক্ষেত্রে জেলার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ উপজেলা বলে জেলার সর্বমহলে স্বীকৃত। আজ সোমবার পাবনার জেলা প্রশাশক কবীর মাহমুদ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই কথাটি অকপটে স্মরণ করে ভাঙ্গুড়াবাসীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন। সোমবার বিকালে এই বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান। এসময় ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ, পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ রঞ্জু, আজিদা পারভীন পাখি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল জব্বার ছানা, ভাঙ্গুড়া হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান, ভাঙ্গুড়া টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ বদরুল আলম সহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও রাজনীতিবিদ বক্তব্য রাখেন।

ইতিহাস মতে, স্বাধীনতার দশ বছর পরেও জেলার ফরিদপুর উপজেলার অন্তর্গত ভাঙ্গুড়া একটি ইউনিয়ন ছিল। স্বাধীনতার পর থেকেই ভাঙ্গুড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন, তৎকালীন ভাঙ্গুড়ার চেয়ারম্যান ও বর্তমান সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের পিতা আলহাজ্ব মুহসিন আলী ও সেসময়ের ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার ছানা ভাঙ্গুড়াকে উপজেলায় রূপান্তরিত করতে নানামুখী উদ্যোগ নেন। তাদের এই উদ্যোগে ভাঙ্গুড়ার বিশিষ্টজনেরা সমর্থন দেন। এর প্রেক্ষিতে আশির দশকের শুরুতে ভাঙ্গুড়া একটি স্বতন্ত্র উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ফরিদপুর, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা নিয়ে সংসদীয় একটি (পাবনা-৩) আসন। ৪ লাখ ভোটারের এই আসনের মধ্যে মাত্র ৯৬ হাজার ভোটারের সবচেয়ে ছোট উপজেলার বাসিন্দা আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। এরপর ২০০৯ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে একটানা ১২ বছর সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণে পাবনা-৩ আসনে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। এছাড়া ভাঙ্গুড়া উপজেলার চলন বিলের মধ্যে দিয়ে ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গুড়া-নওগাঁ সড়ক নির্মাণ করে এলাকার উন্নয়নেও তাক লাগিয়েছেন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখতে ভাঙ্গুড়া উপজেলাতে সাধারণ ভোটাররা বিগত স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে দল-মত-নির্বিশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে। এ কারণে ভাঙ্গুড়াকে সুখী মানুষের একটি উপজেলা প্রতিষ্ঠা করায় জনগণের দাবির মুখে সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের জৈষ্ঠ্য ছেলে গোলাম হাসনাইন রাসেল ২০১৫ সালে ভাঙ্গুড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এরপর থেকেই ভাঙ্গুড়ায় উন্নয়ন ও অগ্রগতি আরো দ্রুতগতিতে ত্বরান্বিত হতে থাকে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন ও তার ছেলে মেয়র গোলাম হাসানের রাসেলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটেছে এই উপজেলায়। সোমবার ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের বীর মুক্তিযুদ্ধা এম হোসেন আলী অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসকের বিদায়ী সংবর্ধনা ও সকল স্তরের মানুষের মত বিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথাগুলো তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন