Wednesday, June 23, 2021

ভাঙ্গুড়ায় কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে কামার শিল্প

পাবনার ভাংগুড়া উপজেলার কামার বা কর্মকারের পেশা সার্বজন স্বকৃত হলেও নানা প্রতিকুলতার কারণে এ পেশার সঙ্গে জড়িত ভাঙ্গুড়া উপজেলার শতাধিক কামার পরিবারের ভাগ্যাশে নেমে এসেছে দুর্যোগের ঘনঘটা। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল জ্বালানি কয়লা ও লোহজাত শিল্পে আধুনিক ব্যবস্থা প্রবর্তন হওয়ায় কামারদের সুদিন আর নেই। দা, বটি, কাস্তে, কোদাল, হাতুরী, এবং কুঠার তৈরী করাই কামার বা কর্মকারের প্রধান কাজ। বর্তমান সময়ে এসব জিনিসের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় বলদ-নাঙ্গলের পরিবর্তে কলের নাঙ্গল ব্যবহার বেশী হওয়ায় কোদাল ও নাঙ্গলের ফাল তৈরীর পয়োজন হয়না বল্লেই চলে। দা-কুঠার যা-ই দু’একটি তৈরী হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চলছেনা কামারদের। যাঁতি, ছেচুনিসহ বিভিন্ন সৌখিন সামগ্রিতে লৌহের ব্যবহারের পরিবর্তে অন্যান্য দ্রব্যাদি ব্যবহার হওয়ায়ও কামারদের আয়-রুজির পথ রুদ্ধ হয়ে আসছে।

উপজেলার৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজারে এক সময় ৩ শতাধিক কামারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো কারক্রমে এদের সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে একশতে দাঁড়িয়েছে বলে একটি বেসরকারী সংস্থার হিসাব মতে জানা গেছে। এসব কর্মকারের অবস্থা এতই করুণ যে ছেরে-মেয়েদের নিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো আহার জোগার করতেই হিমশিম খাচ্ছে। সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচ জোগাতে হিম শিম খেতে হচ্ছে । ময়দানদিঘী বাজারের কর্মরত মোঃসেরাজুল ইসলাম জানান, লোহার মূল্য বৃদ্ধি,পাথর কয়লার সংকট সর্বপরি লোহার তৈরী সামগ্রির চাহিদা কমে যাওয়ায় কামারদের সুদিন শেষ হয়ে গেছে। সারাদিন কাজ-কর্ম করে দু’মুঠো পেটের ভাত জোগার করাই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও কোন স্বীকৃতি না থাকায় কামার সম্প্রদায় এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। চন্ডিপুর বাজারে কর্মরত রাজন কর্মকার জানান, এক সময় কামার পেশাটি রাজ-রাজাদের অতি প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়ে ছিলো। তাদের ঢাল-তরবারী তৈরী করাই ছিল কর্মকারদের প্রধান কাজ। কালক্রমে রাজাদের রাজত্ব শেষ হওয়ার পর আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হলে কামারদের কদর কমতে থাকে। ফলে কামারদের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। কর্মকাররা তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্যান্য পেশায় জড়িত হচ্ছে। বাপ-দাদার আমল থেকে এ পেশায় জড়িত থাকার ফলে কর্মকাররা নতুন কোন পেশায় গিয়ে সুবিধা করতে পারছেন না বলে তিনি জানান। পুকুর পাড় বাজারের রিপন কর্মকার বলেন, কামার শিল্পে ব্যপক ভূমিকা রাখতে পারে ভাঙ্গুড়া উপজেলার কামাররা। এজন্য দরকার পয়োজনীয় ঋণ সুবিধা কাঁচামালের নিশ্চয়তা ও লোহার তৈরি জিনিপত্রর বিক্রয় ও বিপনের ব্যবস্থা করা।

শেয়ার করুন