Monday, June 14, 2021

মুমূর্ষু রোগীকে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে চলেছেন ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক



তালহা আবীর, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ

আজ ১৪ জুন, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করাই এ দিবসের উদ্দেশ্য।


১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম পালিত হয়েছিল বিশ্ব রক্তদান দিবস।


২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ দিবস পালনের জন্য তাগিদ দিয়ে আসছে। এবার আঠারোতম বারের মতো পালিত হচ্ছে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস।


অসহায় মুমূর্ষু রোগীদেরকে স্বেচ্ছায় রক্তদানের কাজটির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক এর নাম। মৃত্যুর বিরুদ্ধতা নয়, অবাঞ্চিত মৃত্যুরোধে আমাদের এই মৃত্যুবৈরী ঐদ্ধত্য এমন এক শ্লোগান ধারন করে মানব সেবার ব্রত নিয়ে ১৯১৭ সালের ১ জানুয়ারী যাত্রা শুরু করে ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক।


মানবসেবায় হাসপাতালে যাতায়াত ও রুগীদের সাথে সম্পর্কের সূত্র ধরে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক প্রাণবন্ত কর্মীরা। মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও অসহায় হয়ে হাসপাতালের বিছানায় ছটফটে কাতরানো অসুস্থ মানুষের রক্তের দরকার হলেই খুঁজে বের করেন ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক  কর্মীদেরকে।


এসব মহৎপ্রাণ কর্মীদের কারনে আজ ফরিদপুর সরকারি ও জেনারেল হাসপাতালে রক্তের অভাবে কোনো মানুষ মৃত্যুবরণ করেননি। তারা বলেন, আমাদের তো কোনো ক্ষতি হলো না, অথচ আরেকজনের জীবনটা বাঁচলো। রক্তদান করলে শরীরে নতুন নতুন রক্তকোষ তৈরি হয়। শরীর অনেক হালকা লাগে। নিজের শরীরকেও ভালো রাখার জন্যও রক্ত দেওয়া দরকার। এখন এটা ভাবতেই ভালো লাগে যে আমার শরীরের রক্ত নিয়ে বেঁচে আছে আরেকজন মানুষ , এটার যে আত্মিক প্রশান্তি বা তৃপ্ততা তা অন্য কোনো কিছুতে নেই।


সকলেরই স্বেচ্ছায় রক্তদান করা উচিত ও নিজের রক্তের গ্রুপটা জানা থাকা সকলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তারা। শুধু তাই নয়, ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক কর্মীরা নিজেরা রক্ত দিয়েছে যেমন, ঠিক তেমনি মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, নিজেদের পরিবারের মানুষদেরকে, নিজেদের স্বজনদেরকে নিজেদেরই রক্ত দিতে হবে। এটা সাধারন মানুষের মাঝে এই বোধ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তারা এও বলেন, প্রতিটি মানুষের তার নিজের রক্তের গ্রুপটা জানা থাকটা খুবই জরুরী ।


এ বিষয়ে ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক এর সভাপতি মানবপ্রেমী ব্যাক্তিত্ব জহুরুল ইসলাম বলেন, এদের মতো কর্মীরা একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রাণশক্তি। এরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করে মানব প্রেমের যে নিদর্শন রেখেছে এতে আমরা গর্বিত। এর মাধ্যমে তারা যেমন নিজেদেরকে মহান করে তুলে ধরেছে, জীবন বাঁচিয়েছে অসহায় মুমুর্ষ মানুষদের, ঠিক পাশাপাশি ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক করেছে গৌরান্বিত। এ ধরনের মানবপ্রেম বোধ যদি সকলের মাঝে জাগ্রত হয় তবে সাধারন মানুষ উপকৃত হবে।


সোনিয়া আক্তার, ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক এডমিন ফরিদপুরে এমন ধরনের কর্মীরা ছিলো ও আছে বলেই আজ অবধি ফরিদপুর সরকারি হাসপাতালে রক্তের অভাবে কোনো মানুষ মারা যাবার ঘটনা ঘটেনি। ফরিদপুর সকল কর্মকর্তা ও কর্মী যে ভূমিকা রেখেছে ও রেখে যাচ্ছে তা সুন্দর অনুভব ও শ্রদ্ধা দিয়ে স্মরণ করে ফরিদপুরের মানুষ।


তিনি ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিগতদিনের মতোই সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যশা করেন। বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর ব্লাড নেটওয়ার্ক এর পক্ষ থেকে সকল স্বেচ্ছায় রক্তদাতাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।


শেয়ার করুন