Wednesday, May 26, 2021

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন ভাঙ্গুড়ার ছাত্রলীগ নেতা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
দরিদ্র পরিবারের সন্তান শামীম আহমেদ (২৩)। দিনমজুর পিতা আব্দুল মতিন কোনরকমে দুই সন্তানের পড়াশোনা ও সংসার খরচ চালিয়ে নিচ্ছিলেন। পরিবারের এমন নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যেও শামীম নবম শ্রেণীতে পড়াশোনার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বঙ্গবন্ধুর স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করা শামীম স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। কিছুদিন আগে শামীমের ছোট ভাই সেনাবাহিনীর চাকরি পান। এতে পরিবারটি অর্থনৈতিক সচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেন। এ অবস্থায় স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামীম দিনমজুর বাবার কাছে বায়না ধরে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য। সন্তানের পীড়াপীড়িতে গত ২৮ শে মার্চ দরিদ্র বাবা দেড় লাখ টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন। সেই শখের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১১ দিন রাজশাহীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ বুধবার শামীম মারা যায়। শামীম পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের সরদার পাড়া মহল্লার আব্দুল মতিনের ছেলে ও ভাঙ্গুড়া পৌর  ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। সে ভাঙ্গুড়া সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের পরদিন শামীম মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে ভাঙ্গুড়া যাওয়ার সময় পৌর শহরের সরদারপাড়া মোড়ে অপরদিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হাওয়ায় তাকে রাজশাহীর বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। সেখানে ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরেও জ্ঞান ফেরেনি শামীমের। এই ৮ দিনে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার দেনা করে টাকার যোগান দেন তার পরিবার। সেখানকার চিকিৎসকরা শামীমকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষে আর টাকার যোগান দেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই নিরুপায় হয়ে গত রবিবার শামীমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে আজ বুধবার সকালে শামীম মারা যায়।

চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে শামীমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, দুর্ঘটনায় শামীমের মাথার খুলির একপাশে ভেঙ্গে ১২ টুকরো হয়। এসব টুকরো মাথার মগজের মধ্যে আটকে ছিল। চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করে সাতটি টুকরো বের করতে সক্ষম হয়। এরপর থেকেই মৃত্যুর সময় পর্যন্ত শামীম জ্ঞানহীন ছিল। 

শামীমের নিকটাত্মীয় মাহমুদুল হাসান জুয়েল বলেন, শামীমের বাবা আব্দুল মতিন দরিদ্র দিনমজুর। খুব কষ্টে তিনি দুই সন্তানকে পড়াশোনা করিয়েছেন। কিছুদিন আগের ছোট ছেলে সেনাবাহিনীর চাকরি পাওয়া যায় পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসে। সব সময় তিনি বলতেন ছেলেরা বড় হলেই সব কষ্ট চলে যাবে। কিন্তু তার বড় ছেলে তাকে কষ্ট দিয়ে পরপারে চলে গেলো। 

ভাঙ্গুড়া পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি প্রভাষক হেলাল উদ্দিন খান বলেন, শামীমের মৃত্যুতে পৌর ও উপজেলা ছাত্রলীগ গভীরভাবে শোকাহত। ছাত্রলীগ চেষ্টা করবে শামীমের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।

শেয়ার করুন