Sunday, May 2, 2021

ভাঙ্গুড়ায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার | ভাঙ্গুড়ার আলো

 ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মদিনা খাতুন (২০) নামে এক গৃহধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের স্বামী রোকন উদ্দিনের বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রবিবার সকালে পুলিশ মদিনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পাঁচ মাস আগে কৃষক রোকনের সঙ্গে মদিনার বিয়ে হয়। তবে মদিনার পিতার পরিবারের দাবী মদিনাকে হত্যা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ মাস আগে পারিবারিক সূত্রে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মৃত খোশলাল প্রামাণিকের ছেলে রোকন উদ্দিনের সঙ্গে একই উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মোস্তফা মোল্লার মেয়ে মদিনার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মদিনার পরিবার যৌতুকের আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে শাশুড়ি, ননদ ও স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয় মদিনার। এমনকি মদিনা তার বিধবা শাশুড়িকে সংসার থেকে আলাদা করে দেয়ার জন্য স্বামীকে চাপ দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মারাত্মক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে শনিবার বিকালে মদিনার সঙ্গে স্বামী ও শাশুড়ির বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় স্বামী রোকন উদ্দিন রাগারাগি করে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রোকন বাড়ি ফিরে ঘরের ভেতর থেকে দরজা আটকানো দেখতে পায়। দীর্ঘক্ষন ডাকাডাকি করে সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাড়ির সবাই মদিনার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।
মদিনার নানা সাইফুল মোল্লা অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে রোকন ও তার পরিবারের লোকজন মিলে মদিনাকে হত্যা করেছে। কিন্তু দোষ এড়াতে এখন তারা আত্মহত্যার কথা বলছে। অভিযোগের বিষয়ে রোকনের বড় ভাই ইউপি সদস্য সাকোওয়াত হোসেন বলেন, পারিবারিক বিষয়ে কলহের কারণে মদিনা আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি তদন্ত নাজমুল হক বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রোকন উদ্দিনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পরে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন