Thursday, April 29, 2021

ভাঙ্গুড়ায় লকডাউনে বেপরোয়া অবৈধ স্টিয়ারিং ট্রলি | ভাঙ্গুড়ার আলো

ভাঙ্গুুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

কঠোর লকডাউনের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সকল যানবাহন চলাচল বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। তবে জীবিকার তাগিদে সীমিত পরিসরে থ্রি-হইলার জাতীয় যানবহন চলাচল করছে। কিন্তু এমন বিধি নিষেধের মধ্যেও পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সড়কে দাপিয়ে চলছে অবৈধ স্টিয়ারিং ট্রলি (কুত্তা গাড়ি)। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন সড়কে মাটি নিয়ে শতাধিক স্টিয়ারিং ট্রলি বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। এতে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা চরম হুমকিতে রয়েছেন।


সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া বাজার ও ভেড়ামারা আঞ্চলিক মহাসড়কের একাধিক স্থান থেকে জমি ও পুকুর সংস্কারের মাটি গত দুই সপ্তাহ ধরে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। সড়কে ভারী যানবাহন না থাকায় স্টিয়ারিং ট্রলির অদক্ষ চালকরা বেপরোয়া গতিতে সড়কে চলাচল করছেন। ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে ট্রলি প্রতি মাটির দাম নির্ধারণ হয়। তাই দিনে বেশি ট্রলি মাটি ভাটায় পৌঁছালে আয় বেশি হয়। এ কারণে চালকরা ঝুঁকি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে সড়কে চলাচলকারীদের। 


স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রি মহোৎসব শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে মাটিকাটা বন্ধ করে দিলেও কিছুদিন পর তা আবার শুরু হয়। বর্তমানে লকডাউনের কারণে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাজার এলাকায় মনিটরিংয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও অন্যান্য সড়কে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব অবৈধ যানবাহন চালকরা।


উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের একজন বাসিন্দ বলেন, বেপরোয়া গতির স্টিয়ারিং ট্রলির কারণে সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। কখন যে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এছাড়া সড়কে হেঁটে চলাফেরা করা আরো ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়ির শিশুদের নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় অবৈধ এই যানবাহনের জন্য।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রলি চালক বলেন, রাস্তায় বড় গাড়ি না থাকায় দ্রুতগতিতে ট্রলি চালানো হয়। কারণ বেশি ট্রিপ দিলেই টাকা বেশি পাওয়া যাবে। 


শেয়ার করুন