Sunday, February 7, 2021

সেদিনের আশীর্বাদে মেয়র রাসেলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে জনগণ | ভাঙ্গুড়ার আলো

বিশেষ প্রতিনিধি

আজ ফেব্রুয়ারি ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেলের ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ বছর পূর্তি হলো। ২০১৬ সালের এই দিনে মেয়র রাসেল তার পিতা স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের আশীর্বাদ নিয়ে পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পুত্র প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী সাধারণ মানুষের মধ্যে রাসেলকে নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে জনসেবা উন্নয়ন দিয়ে রাসেল ভাঙ্গুড়ার মানুষের মনে শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। পিতার মত রাসেল নিজেও দায়িত্ববান, জনদরদি সাদামাটা জীবনের অধিকারী হাওয়ায় তার নেতৃত্বের গুণাবলী পাবনার তিন আসনের অন্যান্য উপজেলায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ এখন মেয়র রাসেলকে আগামী দিনে পাবনা- আসনের সংসদ সদস্য তার পিতা আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের উত্তরসূরী হিসেবে দেখছেন। 

দলীয় নেতাকর্মী সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসনাইন রাসেল পৌরসভার মেয়র ভাঙ্গুড়া উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা। পাবনা- আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের জৈষ্ঠ্য সন্তান রাসেল পৌরসভার নেতা হলেও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে দলীয় নেতা-কর্মী সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়ান। অত্যন্ত সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত রাসেল ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গরীবের নেতা বলে পরিচিত। উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামের শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত রাসেল নামে তাকে এক ডাকে মেয়র হিসেবে চেনে। মানুষের বিপদে-আপদে আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র মানুষদের ন্যায্য বিচার পাইয়ে দিতে রাসেলের ভূমিকা এই উপজেলায় অদ্বিতীয়। এরওপর গত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরে ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, প্রতিটি মহল্লায় পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা করা, শহর আলোকিতকরণ, সৌন্দর্য বৃদ্ধি, শিশু পার্ক নির্মাণ, নিজে অভিযান পরিচালনা করে মাদকসেবীদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিরন্তর জনসেবা দেয়ায় পৌরবাসীর মনে শক্ত জায়গা করে নেন রাসেল। এছাড়া ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরে গোলাম হাসনাইন রাসেল পৌর এলাকার সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুণগত মানোন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করেন। এই উদ্যোগের প্রথম ধাপে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার আধুনিকায়ন, শিশুদের আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি, প্রতিটি বিদ্যালয়ে উপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধান করতে কাজ শুরু করেন। মেয়রের এমন উদ্যোগ সারাদেশব্যাপী প্রশংসা অর্জন করে। অবস্থায় দুবছর আগে তিনি জেলা, বিভাগ সর্বশেষে দেশব্যাপী শ্রেষ্ঠ এস এম সি সভাপতি নির্বাচিত হন। দেশ সেরা এসএমসি সভাপতি হয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদক অর্জন করেন। মেয়র রাসেলের কৃতিত্ব ভাঙ্গুড়াকে সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি করিয়ে দেয়। এরপর ধাপে ধাপে মেয়র রাসেল মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ বাস্তবায়ন করেন। এতে ভাঙ্গুড়ায় শিক্ষার পরিবেশ দিনে দিনে উন্নতি হচ্ছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষিত সুশীল সমাজ।তাই দ্বিতীয় মেয়াদে রাসেল পৌর মেয়র মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ দলীয় নেতাকর্মীদের মনে আগামী দিনের জন্য তাকে নিয়ে রাজনীতিতে স্বপ্ন বেড়েছে বহুগুণ।

 

ভাঙ্গুড়া উপজেলা পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ সাদামাটা জীবন মেয়র রাসেলকে বিশেষত্ব এনে দিয়েছে। তাই মানুষের কাছে এত জনপ্রিয় মেয়র রাসেল। এছাড়া তার উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে গতানুগতিক পদক্ষেপ সচেতন মানুষের নিকট আরো গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এতে মেয়র রাসেলের কাছে সাধারণ মানুষ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা আরো বেড়েছে। তাই আগামী দিনে রাসেল তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে সকলেই মনে করছে।

 

মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন, 'মেয়র নির্বাচিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণ করে চলার চেষ্টা করেছি। এজন্য সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী আমার পরিবারের দোয়া আশীর্বাদ পেয়েছি সর্বদা। এই অনুপ্রেরণা নিয়ে পৌরবাসীকে সকল প্রকার সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রশস্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন মহল্লায় নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি মহল্লায় পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি করায় মানুষের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। করোনার সময় মানুষকে ঘরে রাখার পাশাপাশি কর্মহীন মানুষদের খাবার যোগান দিয়েছি। একসময় ভাঙ্গুড়া পৌরশহরে মাদকের ব্যাপক বিস্তার ছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছি। আনন্দ বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক করে দিয়েছি। শিক্ষার উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। পৌরবাসীর পাশাপাশি উপজেলার সকল এলাকায় সাধ্যমত মানুষকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে একত্রে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি এবং আমার পরিবার কৃতজ্ঞ।'


শেয়ার করুন