Monday, February 8, 2021

ফরিদপুরে প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ | ভাঙ্গুড়ার আলো

বিশেষ প্রতিনিধি
পাবনার ফরিদপুরে ইসরাফিল প্রমানিক নামে এক ব্যক্তি জোরপূর্বক শামীম আহমেদ নামে এক কৃষকের জমি কেটে পুকুর তৈরি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার হাদল ইউনিয়নের হাদল গ্রামে গোয়ালগাও মৌজায় এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত কৃষক ওই গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শামীম আহমেদ ভাঙ্গুড়া উপজেলার হাটগ্রামের মৃত মহসিন মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফরিদপুর উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি।

লিখিত অভিযোগ ও সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার হাটগ্রামের বাসিন্দা শামীম আহমেদ পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার হাদল গ্রামের গোয়ালগাও মৌজায় ৩.৪৮ একর অনাবাদি জমিতে বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষ করেন। তবে হাদল গ্রামের ইসরাফিল প্রামানিক পূর্ব থেকেই এই জমি গ্রামের কবরস্থানের নামে মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ অবস্থায় গত এক সপ্তাহ আগে কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল প্রামানিক কবরস্থানের জমিতে পুকুর খনন শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি কবরস্থানের জমি ছাড়াও শামীম আহমেদের জমি এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে কাটতে শুরু করেন। এতে শামীম আহমেদ তার জমির মাটি কাটতে ইসরাফিল প্রামাণিককে বাধা দেন। কিন্তু ইসরাফিল নানি অজুহাত দেখিয়ে জোরপূর্বক শামীমের জমিতে পুকুর খনন কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নিজের জমি রক্ষায় শামীম উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও  থানা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেও গত চারদিনে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটছে ওই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের।

ভুক্তভোগী কৃষক শামীম আহমেদ বলেন, জমিটি আমার নিজ গ্রামে না হওয়ায় ইসরাফিল জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। এতে আমি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও জমির মাটি কাটা বন্ধ হয়নি। নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধামাচাপা দিতেই ইসরাফিল কবরস্থানের জমি বলে অজুহাত দিচ্ছে।

ইসরাফিল প্রামানিক বলেন, জমিটি শামীম মালিকানা দাবি করলেও মূলত কবরস্থানের সম্পত্তি। এটা নিয়ে আদালতে ও থানা প্রশাসনে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এখন তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন নিষেধ করলে মাটি কাটা বন্ধ রাখবো।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করতে হাদল ইউনিয়নের সহকারি ভূমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তখন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন