Wednesday, February 17, 2021

ভাঙ্গুড়ায় সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাবেন কি দুস্থ নারীরা?

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচির কার্ডধারী দুস্থ নারীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের যোগসাজশে স্থানীয় উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান মনি ৩৫৫ জন উপকারভোগীর নারীর কাছ থেকে মোট লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গত দুই দিন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে জমা হয়ে প্রতিবাদ জানান ভুক্তভোগীরা। পরে গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ২০১৯-২০ বছরে উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নে ৩৫৫ জন নারীকে ভিজিডি কার্ডে তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্ত নারীরা প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পান। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এসব নারী ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেমানবকল্যাণ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থানামের একটি এনজিওতে ৩০০ টাকা করে প্রতি মাসে জমা দেন। ব্যাংক এশিয়ার স্থানীয় এজেন্ট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান মনির মাধ্যমে এসব টাকা জমা করা হয়। অবস্থায় গত রবিবার দুই বছরে জমা করা টাকা উপকারভোগীদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে ফেরত দেওয়া হয়। এতে প্রত্যেককে সাত হাজার ২০০ টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেওয়া হয়েছে মাত্র চার হাজার ৪০০ টাকা। সময় উপকারভোগী নারীরা প্রতিবাদ জানালে উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান মনিসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাঁদের তাড়িয়ে দেন। সচেতন মানুষের পরামর্শে প্রায় ৫০ জন উপকারভোগী নারী গতকাল উপজেলা পরিষদে সশরীরে এসে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে অষ্টমনিষা ইউনিয়নের ৩৫৫ জন দুস্থ নারীকে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। তখন থেকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেন ইউনিয়নের উদ্যোক্তা স্থানীয় ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট মনিরুজ্জামান মনি। কিন্তু মনিমানবকল্যাণ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থাতে মাসিক মাত্র ২৭৫ টাকা করে জমা করেন। ছাড়া প্রত্যেকেরই সঞ্চয়ী হিসাবে ছয় থেকে আট মাসের টাকা জমা না করে নিজেই আত্মসাৎ করেন। অষ্টমনিষা ইউপি চেয়ারম্যান আয়নুল হকের যোগসাজশে এই টাকা আত্মসাৎ করেন মনি। তবে দুই বছর ধরে উপকারভোগীদের সঞ্চয় জমা দেওয়ার বইটি মনি তাঁর কাছে রেখে দেওয়ায় কেউই টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেনি। অবশেষে গত রবিবার উপকারভোগীদের জমা দেওয়া সাত হাজার ২০০ টাকার পরিবর্তে চার হাজার ৪০০ টাকা ফেরত দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে ৩৫৫ জন দুস্থ নারীর মোট লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সময় দুস্থ নারীরা প্রতিবাদ করলে মনিসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য ভয়-ভীতি দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সবাইকে তাড়িয়ে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানের অনুমতিতে মাসে ২৫ টাকা করে নেওয়া হয়।অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়নুল হক বলেন, ‘প্রত্যেক উপকারভোগীর কাছ থেকে চাল পরিবহন খরচ বাবদ প্রতি মাসে মাত্র ২৫ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।অভিযোগপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হাসনাত জাহান শিখা বলেন, ‘অিভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন