Wednesday, January 27, 2021

ভাঙ্গুড়ায় চলছে কোচিং | ভাঙ্গুড়ার আলো

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই কোচিং সেন্টারে ক্লাস চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের অষ্টমনিষা বাজারে চলনবিল বিজ্ঞান স্কুল নামে ওই কোচিং সেন্টারে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে সকাল আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত ক্লাস চালানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় সচেতন অভিভাবকরা উপজেলা  শিক্ষা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি মাসে অষ্টমনিষা বাজারে চলনবিল বিজ্ঞান স্কুল নামে কোচিং সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছরই কর্তৃপক্ষ কোচিং সেন্টারে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে নিয়মিত পাঠদান শুরু করেন। এসব শিক্ষার্থীদের উপজেলার বিভিন্ন এমপিও নন এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে সকল শ্রেণীর বই সংগ্রহ করা হয়। এরপর করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে চলনবিল বিজ্ঞান স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। পরে একাধিকবার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম গোপনে চালু করার চেষ্টা করলেও অভিভাবকদের বাধায় করতে পারেননি কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

এরপর বছর জানুয়ারি মাসে বই বিতরনের কথা বলে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয় পরিচালক। কোচিং সেন্টারে উপস্থিত না হলে বই দেওয়া হবে না বলে ঘোষনা দিলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে পাঠায় অভিবাবকরা। অবস্থায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কোচিং সেন্টার চালানোর অভিযোগে স্থানীয় সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় হাজার স্কয়ার ফিটের একটি একতলা ভবনের সামনের অংশে একাধিক দোকান রয়েছে। ভবনের কোচিং সেন্টারে প্রবেশের গেটে বাহির থেকে তালা দেয়া থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা যায়নি। এমনকি বাহির থেকে ডাকলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, ভবনের ভেতরের কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। পরে গেটে দাঁড়িয়ে থাকলে শিক্ষার্থীদেরকে ভবন থেকে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখা যায়। অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল না মাস্ক।

শিক্ষার্থীর অভিবাবকরা অভিযোগ করেন, কোচিং সেন্টার হলেও এটি এখন বিদ্যালয়ের মত পরিচালিত হয়। বছরের শুরুতে কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পরেও বিদ্যালয়ে না গেলে বই পাওয়া যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কোচিং সেন্টারে ক্লাস করছে।

বিষয়ে কোচিং সেন্টারের পরিচালক লিয়াকত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, শুনছি সরকার স্কুল খুলে দিবে এবং জেএসসি এসএসসি পরীক্ষা নিবে। তাই সিলেবাস দেখিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে আসতে বলা হয়। তবে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আস্তে বলা হয়েছে। এসময় তিনি জানান, উপজেলার অনেক কোচিং সেন্টারে গোপনে ক্লাস চলছে তাই আমরাও শুরু করেছি।

ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে এখনো দেশে স্কুল কলেজ খোলা হয়নি। অবস্থায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কোচিং সেন্টার চালু করায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুন