Sunday, December 13, 2020

গোপন বৈঠক করে মেজর সিনহাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ওসি প্রদীপ

 

বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে আজ রবিবার আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের চার মাস পর আদালতে আজ মামলার চার্জশিট বা অভিযোগ পত্র জমা দেন ্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা।

হত্যার আগে 'গোপন বৈঠকে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার তাকে হত্যার মূল পরিকল্পনা করে' বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানায় ্যাব। চার্জশিটের বিষয় নিয়ে দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলন ্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এসব কথা জানিয়েছেন।

কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন সাক্ষী, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষী, আলামত, জবানবন্দি নিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাস। তিনি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বিষয়গুলোকে ধামাচাপা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়, কক্সবাজারের টেকনাফ ওসি প্রদীপের অভয়ারণ্য ছিল। কথিত রাজ্য ছিল। মূলত এই স্বেচ্ছাচারিতা, আইন অমান্য করে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, এবং তার ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সিনহা তার সঙ্গীরা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওসি প্রদীপ সরকারি অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করেছেন এবং ইয়াবা কেন্দ্রিক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এসব বিষয়ে ওসি প্রদীপের কাছে জানার জন্য ক্যামেরা ডিভাইসসহ তারা তিনজন (সিনহা, শিপ্রা সিফাত) যখন থানায় যায়। ্যাবের অভিযোগপত্রে বলা হয়, থানায় তাদেরকে অনতিবিলম্বে টেকনাফ বা কক্সবাজার ছেড়ে যেতে বলা হয়। তা না হলে "তোমাদের আমি ধ্বংস করে দেবো" বলে হুমকি দেয়া হয়। তবে ওসি প্রদীপের হুমকি উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণেই ষড়যন্ত্র করে মেজর সিনহাকে হত্যা করা হয়েছে বলে বলছে ্যাব।

এর আগে সকালে কক্সবাজার আদালতে ২৬ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন ্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম। অভিযোগ পত্রে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা এখন কারাগারে রয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার, বাহারছড়া ক্যাম্পের বরখাস্তকৃত পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, টেকনাফ থানার কয়েক জন পুলিশ সদস্য, আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের তিন সদস্য, স্থানীয় তিন বাসিন্দা, এবং বাকি একজন পলাতক। তিনি টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমারের দেহরক্ষী সাগর দেব। কারাগারে থাকা ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ৩১শে জুলাই রাতে কক্সবাজারের একটি পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ। সেই ঘটনায় পুলিশ দুইটি মামলা করে। অগাস্ট এই ঘটনায় নয়জন পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন মেজর (অব) সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার। এই মামলা পুলিশের মামলা দুইটির তদন্তভার ্যাবকে দেওয়া হয়।

এর পরের দিন অর্থাৎ অগাস্ট ওসি প্রদীপ লিয়াকতসহ সাতজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

 

সূত্র : বিবিসি নিউজ


শেয়ার করুন