Wednesday, December 9, 2020

ভাঙ্গুড়ায় জয়িতা আমেনা খাতুন সফল জননী

 

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার আরাজী পারভাঙ্গুড়া মহল্লার মৃত সেরাজুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা খাতুন (৮৫) জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন। অল্প বয়সী বিধবা এই নারী ১২ সন্তানকে সুশিক্ষিত করে জয়িতা নির্বাচিত হন। বুধবার বিকালে তিনি পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সংবর্ধনা পুরস্কার গ্রহণ করেন। বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে 'জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ' শীর্ষক কার্যক্রমে এই মহীয়সী নারীকে উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত করা হয়।

জানা যায়, আমেনা খাতুন ১৩/১৪ বছর বয়সে সেরাজুল ইসলামের বধু হয়ে পরিবারে আসেন। পিতার বাড়িতে পড়াশোনার সুযোগ না পেলেও স্বামীর বাড়িতে এসে তিনি কোরআন বাংলায় পড়াশোনা করেন। সে সময় তার স্বামী সেরাজুল ইসলাম সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। কিন্তু বিবাহের কিছুদিন পরেই সেরাজুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। সময় চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে শক্ত হাতে পরিবারের হাল ধরেন আমেনা খাতুন। মাত্র ১০/১২ বিঘা জমির আয় দিয়ে আমেনা খাতুন তার সন্তানদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকেন। এঅবস্থায় ১৯৭২ সালে সেরাজুল ইসলাম মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এরপর পাঁচ বছর ভুগে ১৯৭৭ সালে তিনি মারা যান। নিরুপায় হয়ে আমেনা খাতুন বড় তিন ছেলেকে পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থের জন্য বিভিন্ন কর্মে নিযুক্ত করে দেন। বড় তিন ছেলের আয় দিয়ে আমেনা খাতুন ছয় ছেলে তিন কন্যাকে উচ্চশিক্ষিত করেন।  তার ১২ সন্তানের মধ্যে প্রত্যেকেই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে এক সন্তান পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আরেক সন্তান ব্যাংকের ডিজিএম কর্মরত রয়েছেন। বড় তিন ছেলে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি সন্তান নাতি নাতনি নিয়ে একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করছেন। এজন্যই এলাকার মানুষ তাকে রত্নগর্ভা বলে সম্বোধন করেন।

আমেনা খাতুনের এমন সংগ্রামী জীবনের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবছর সফল জননীর নারী হিসেবে উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত করেন।


শেয়ার করুন