Monday, November 2, 2020

ভাঙ্গুড়ায় রেলের খাল বেদখল

 
পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের বড়াল ব্রিজ রেলস্টেশনের সামনের সরকারি খাল দখলে নিয়ে বালু ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তুলছে অবৈধ দখলদাররা।

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের বড়াল ব্রিজ রেলস্টেশনের সামনের সরকারি খাল দখলে নিয়ে বালু ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তুলছে অবৈধ দখলদাররা। রেল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই খালের প্রায় এক একর জায়গা দখল ও ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ কারণে প্রতিদিন নতুন করে খাল দখলদারের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। দখলের কবলে পড়ে এরই মধ্যে রেলের অন্তত পাঁচ কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে রেল কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের বড়াল ব্রিজ রেলস্টেশনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় তিন একর আয়তনের একটি খাল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক আগে থেকেই পানির মধ্যে বাঁশের বেড়া দিয়ে এই খাল দখল করে রাখে। এসব দখলদারের মধ্যে কেউ কেউ রেলের খাল অন্যদের কাছে বিক্রিও করে দিয়েছে। বর্তমানে দখলদাররা বালু দিয়ে খাল ভরাট করতে শুরু করেছে।

বর্তমানে এই খালের প্রতি শতাংশ জায়গার বাজার মূল্য পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। কিন্তু দখল করা জায়গা শতাংশপ্রতি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায়। সাদা কাগজে অথবা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে এসব জায়গা বিক্রি করা হচ্ছে। রেলস্টেশনের নাকের ডগায় এভাবে রেলের খাল ভরাট হলেও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ স্থানীয় রেল কর্মকর্তারা। তাঁদের এমন আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের শরতনগর বাজারের কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ, চৌবাড়ীয়া মহল্লার মঞ্জু বিশ্বাস, বেলাল হোসেন, ইমান আলী, আব্দুস সালাম, কৃষ্ণ কুমার, সারুটিয়া মহল্লার আইয়ুব আলী ও সাইফুল সরকার, সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন, আবু সাঈদ, রায়হান আলী, উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামের বাসিন্দা সবুজ আলীসহ অন্তত ২০ জন রেলের আওতাধীন এই খাল বালু দিয়ে ভরাট করছেন। প্রতিদিন নতুন করে দখলদারের সংখ্যা বাড়ছে। অথচ আইন অনুযায়ী রেলের আওতাধীন জমির আকার-আকৃতি কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলের কর্মকর্তারা এসে এসব খালের ভরাট কার্যক্রম দেখে গেছেন। কিন্তু দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে চুপচাপ রয়েছেন।

খাল ভরাটের বিষয়ে দখলদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিন লাখ টাকায় ছয় শতাংশ রেলের খাল কিনে নিয়ে ভরাট করছেন। আরেক দখলদার আবু সাঈদ বলেন, ভবানীপুর গ্রামের শাহীন মাস্টারের কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকায় পাঁচ শতাংশ খাল কিনে ভরাট করছেন।

এ বিষয়ে চৌবাড়ীয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, ‘দখলদাররা স্থানীয় বাসিন্দা বলে ভোটের কারণে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদেরও করার কিছুই নেই।’

ভাঙ্গুড়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা কাওসার হাবিব বলেন, ‘রেলের সম্পদ দেখার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। তাঁরাই রেলের খাল দখল রোধে ব্যবস্থা নেবেন।’

বড়াল ব্রিজ স্টেশনের মাস্টার মামুন হোসেন বলেন, ‘রেলের সম্পত্তি রক্ষার জন্য আলাদা দপ্তর রয়েছে। তাই প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও করার কিছু নেই।’

খাল ভরাটের বিষয়ে পাকশী রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, ‘রেলের খাল ভরাটের কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


শেয়ার করুন