Sunday, November 1, 2020

ভাঙ্গুড়ায় তিন হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা; সড়ক ভেঙে ফেলার চেষ্টা কৃষকের

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

২০১৮-১৯ অর্থবছরে অপরিকল্পিতভাবে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিশাকোল গ্রাম থেকে সাতবাড়িয়া গ্রাম পর্যন্ত কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক নির্মাণ করা হয়। এই সড়ক নির্মাণের ফলে উপজেলার অষ্টমনিষা খানমরিচ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের অন্তত তিন হাজার একর জমিতে বর্ষার পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে গত বছর এসব জমিতে রবিশস্য আবাদ করতে পারেনি এলাকার কৃষকরা। কৃষকের এই দুর্ভোগ নিয়ে গত বছরতিন হাজার একর জমি অনাবাদিশিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়। এতেও টনক নড়েনি উপজেলা প্রশাসনের। এঅবস্থায় উপজেলা প্রশাসন এবছরও জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রবিবার স্থানীয় কৃষকরা শাবল হাতুড়ি সহ দেশীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে সড়ক ভেঙে ফেলার চেষ্টা শুরু করেছেন।

কৃষক সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার অষ্টমনিষা খানমরিচ ইউনিয়ন প্রত্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকা। তাই অষ্টমনিষা ইউনিয়নের সঙ্গে খানমরিচ ইউনিয়নের যোগাযোগের উন্নতি ঘটাতে রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (আরটিআইপি) প্রজেক্টে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সাবমারসিবল সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয় গত বছরের এপ্রিল মাসে। সড়ক নির্মাণ হওয়ার আগে এই এলাকায় বর্ষার পানি নেমে গেলে রবিশস্য আবাদ করতো কৃষকরা। পরে বোরো ধান চাষ করা হতো। কিন্তু গতবছর অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বিশাকোল গ্রাম থেকে খানমরিচ ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া পর্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে কিলোমিটার সড়ক এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ১১টি ইউড্রেন নির্মান করা হয়। ইউড্রেনগুলোর প্রশস্ততা মাত্র তিন ফুট। এরমধ্যে তিন থেকে চারটি ইউড্রেন স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুর নির্মাণ করতে বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে গত বছর সংকীর্ণ ড্রেন দিয়ে ধীরগতিতে পানি বের হওয়ার কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে তিন হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা থাকে। এতে গত বছর কৃষকরা রবিশস্য আবাদ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে অষ্টমনিষা খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এই সমস্যা দূরীকরণে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানান। সর্বশেষ গত সপ্তাহে মাসিক সমন্বয় মিটিং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে জোর দাবি করেন ওই চেয়ারম্যানরা। এরপরেও উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় রবিবার স্থানীয় কৃষকরা শাবল হাতুড়ি সহ দেশীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে বাঁশবাড়িয়া গ্রামে সড়ক ভেঙে ফেলতে শুরু করেন। সড়ক ভেঙে অথবা অন্য কোনো উপায়ে গুমানি নদীতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে এই তিন হাজার একর জমিতে কৃষকরা রবিশস্য আবাদ করতে পারবে। অন্যথায় বছরও এসব জমি অনাবাদি থেকে যাবে।

বিশাকোল গ্রামের কৃষক জুয়েল রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগের অভাবে জলাবদ্ধতার কারণে গত বছর কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বছরও উপজেলা প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই স্থানীয় কৃষকরা নিজেরাই সড়ক ভেঙে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছে।

 

বিষয়ে অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আয়নুল হক বলেন, অপরিকল্পিত সড়ক ইউড্রেনের কারণে গতবছর জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদি ছিল। উপজেলা প্রশাসনকে বারবার বলেও কোনো কাজ হয়নি। বছরও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই এলাকার কৃষক সড়ক ভেঙে পানি বের করার চেষ্টা করছেন।

 

ভাঙ্গুড়া এলজিইডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী আফরোজা পারভীন বলেন, তৎকালীন সময়ে রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রোজেক্টের প্রকৌশলীরা এসে এই সড়কের ডিজাইন করেছিলেন। তাই এই সড়ক ইউড্রেনের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকের ভোগান্তি হলে দায় ওই প্রজেক্টের কর্মকর্তাদের। এখন কৃষকরা নিজেদের জমি রক্ষার জন্য সড়ক ভেঙে ফেললে করার কিছুই নেই। তবে ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। এরপর সড়কটি দ্রুত সংস্কার করতে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করছি।


শেয়ার করুন