Monday, November 9, 2020

ভাঙ্গুড়ায় ইউএনওর কাছে অভিযোগ; চাল পেলেন হতদরিদ্র আলেয়া

 

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

বছর আগে ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিধবা আলেয়া খাতুনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির  (১০ টাকা কেজির চাল) কার্ড নিয়ে নেন ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম।  এরপর থেকে ওই কর্মসূচির চাল তুলে নিচ্ছিলেন ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম। সেসময় আলেয়া খাতুন ওই ইউপি সদস্যের কাছে কার্ড ফেরত চান। কিন্তু ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম তাকে কার্ড ফেরত না দিয়ে নানা টালবাহানার কথা বলে পার করেন প্রায় তিন বছর।  পরে আর ওই ইউপি সদস্য আলেয়া খাতুনকে ভিজিডি কার্ড করে দেননি। কিন্তু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল তুলে নিচ্ছিলেন জাহিদুল ইসলাম। অবশ্য ঘটনায় কর্মসূচির ডিলার ইমন আলীর যোগসাজশ ছিল বলে জানা যায়। সম্প্রতি আলেয়া খাতুন জানতে পারে তার নামে চাল তুলে নিচ্ছেন ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম। বিষয়টি জানার পরই আলেয়া খাতুনের ছেলে আলতাব হোসেন গত মাসের ২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এমনই ঘটনা ঘটেছে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ( নম্বর ওয়ার্ড) কৈডাঙ্গা গ্রামে। হতদরিদ্র আলেয়া খাতুন ওই গ্রামের মৃত আমজাদ খাঁ' স্ত্রী। তবে অভিযোগ দেয়ার পর থেকে আলেয়া খাতুনকে কার্ড ফেরত দিয়ে কর্মসূচির চাল দুইবার দেয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রতিবেশী কার্ডধারীদের মাধ্যমে আলেয়া খাতুন জানতে পারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় তার নাম রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম ওই কার্ডের মাধ্যমে চাল তুলে নেন। বিষয়টি জানার পরে হতদরিদ্র আলেয়া খাতুনের ছেলে আলতাব হোসেন ইউনিয়ন পরিষদে যায় বিষয়টির খোঁজ নিতে। সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন তিনি। এরপর তিনি কর্মসূচির ডিলারের কাছে গিয়ে জানতে পারেন তিন বছর ধরে তার মায়ের নামে চাল উত্তোলন করা হচ্ছে।

অভিযোগকারী আলতাব হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর থেকেই ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। দরিদ্র বলে ইউপি সদস্যের চাপে তারা অসহায় বোধ করছেন। ফলে ইউপি সদস্যের সাথে নিজেরা মীমাংসা করে এখন চাল পাচ্ছেন তারা।

বিষয়ে কর্মসূচির ডিলার ইমন হোসেন বলেন, কার্ড অনুযায়ী চাল দিয়েছি। কার্ডধারীর পক্ষে কে চাল নিয়েছে তা খেয়াল করিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'ওই কার্ডের চাল আমি নিজে খাইনি। একটি পরিবারের নামে কার্ড করে আরেকটি হতদরিদ্র পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এজন্য আমি কার্ড ফেরত দিয়ে আলেয়া খাতুনের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।'

ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খান বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বিচারের ব্যাপারে সম্পূর্ণ দায়-দয়িত্ব ইউপি সদস্য ডিলারের। তাই ব্যাপারে চেয়ারম্যানের কোন কিছু করার নেই।

লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন