Thursday, October 22, 2020

ভাঙ্গুড়ায় ২ মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল হলেও ভাতা উত্তোলন বন্ধ হয়নি

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০০২-এর ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত জুলাই মাসে ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করে। এর মধ্যে ভাঙ্গুড়ার দুজন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল হয়। তাঁরা হলেন- উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের টলটলিয়াপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমান ও পাটুলিপাড়া গ্রামের আবু তাহের। তবে গেজেট বাতিল হলেও এই দুই ব্যক্তি এখনো মুক্তিযোদ্ধাভাতা উত্তোলন করে চলেছেন। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।


সূত্র জানায়, ২০০৫ আবু তাহের ও ২০১৭ সালে সালে ফজলুর রহমান স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে ম্যানেজ করে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাদের পক্ষে সাক্ষী বানিয়ে বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর থেকে তারা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করছেন। এ নিয়ে উপজেলার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ২০১৮ সালে উপজেলার মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) ফজলুর রহমান ও আবু তাহেরকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্ত করতে জামুকার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফজলুর রহমান ও আবু তাহেরকে স্বপক্ষে প্রমাণসহ জামুকায় তলব করে। এরপর এই দুই ব্যক্তি স্বপক্ষের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তে হাজির হন। কিন্তু তদন্তে উত্থাপিত সকল তথ্য-উপাত্ত এবং সাক্ষী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া তথ্যে গরমিল হলে এই দুই মুক্তিযোদ্ধার গেজেট গত জুলাই মাসে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বাতিল করে। এ নিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) গত ১৮ জুলাই একটি গেজেট প্রকাশ করে। তবে গেজেট বাতিলের পরেও ফজলুর রহমান ও আবু তাহের উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে তদন্তে সাক্ষ্য গরমিল দেয়ার কারণে আবু তাহেরের প্রতিবেশী আবুল বাশার নামে একজন মুক্তিযোদ্ধার ভাতাও ৩ মাস বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমিটি না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।


উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মোকসেদ আলী বলেন, ফজলুর রহমান ও আবু তাহের লাল মুক্তিবার্তার তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামুকার কর্মকর্তারা খামখেয়ালিপনা করে তাদের গেজেট বাতিল করেছে। এখন গেজেট বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি চলছে।


গেজেট বাতিলের ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, ফজলুর রহমান ও আবু তাহেরের গেজেট বাতিলের ব্যাপারে কোনো লিখিত আদেশ অফিসে আসেনি। তাই অনলাইনে তাদের গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও ভাতা বন্ধ করা হয়নি। তবে এ ব্যাপারে জামুকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন