Friday, October 30, 2020

ভাঙ্গুড়ায় মন্দিরের সরঞ্জামাদি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের জগতলা মহল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে মহল্লার মহাদেব সূত্রধরের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।এদের মধ্যে গৌরাঙ্গ নামে একজন মারাত্মক আহত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্গাপূজা শেষ হওয়া উপলক্ষে জগতলা মহল্লার যুবক সম্প্রদায় শুক্রবার রাতে মন্দিরে ভোজের আয়োজন করেন। এজন্য আজ দুপুরে মন্দিরের রান্না করার সরঞ্জামাদি মন্দির কমিটির সদস্য মহাদেব সুত্রধরের কাছ থেকে চান জীবন, রতন, মানিক, গৌরাঙ্গ সঞ্জয় সহ অন্তত ১৫ জন যুবক। কিন্তু মহাদেব তার স্ত্রী দিপালী সূত্রধর তাদের বাড়িতে রাখা এসব সরঞ্জামাদি ওই যুবকদের দিতে অস্বীকার করেন। নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দিপালীর ভাই দিলিপ সহ পরিবারের অন্যদের সাথে ওই যুবকদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরবর্তীতে উভয়পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে গৌরাঙ্গ দিলীপ সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। সংঘর্ষে আহত গৌরঙ্গকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা নেন।

 


দিপালী সূত্রধর বলেন, মন্দিরের প্রসাদ তৈরীর কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি যুবকদের ব্যবহারের জন্য দেয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি বাধা দেওয়ায় ওই যুবকরা তাদের উপর হামলা করেন।

 

যুবক সম্প্রদায় পক্ষে মানিক মাস্টার বলেন, 'দূর্গাপূজা উপলক্ষে এলাকার অনেক যুবক ছুটিতে বাড়ি এসেছিল। তাই তারা চলে যাওয়ার আগে আজ রাতে ভোজের আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু মহাদেব সুত্রধর তার পরিবারের সদস্যরা মন্দিরের রান্না করার সরঞ্জামাদি না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা করে আহত করেছে। আমরা ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিব।'

 

ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের এএসআই কামরুজ্জামান বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মারামারি নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় কাউকে আটক করা হয়নি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন