Thursday, October 15, 2020

ভাঙ্গুড়ায় সংঘর্ষে পিতা ও পুত্র নিহত

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি জলাশয় দখল নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তোরাব আলী (৭৫) নামে পিতা ফজলুর রহমান (৪০) নামে ছেলে মারা গেছেন।  আজ বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটার দিকে ফজলুর রহমান এবং গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তোরাব আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের দাসবেলাই গ্রামে জলাশয় দখল এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তোরাব আলী ফজলুর রহমান গুরুতর আহত হন। ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।

 

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দাসবেলাই গ্রামে প্রায় দেড় একর আয়তনের সরকারি জলাশয় দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মসজিদের নামে ডিসিআর কেটে ভোগ দখল করা হয়। মসজিদের কমিটির পক্ষে জলাশয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন। কিন্তু এবছর এপ্রিল মাসে হাফিজুর গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য জলাশয়টি ইজারা নেয়। একারণে বেলাল গ্রুপের সঙ্গে হাফিজুর গ্রুপের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরওপর সম্প্রতি বেলাল গ্রুপের মহিদুল নামে একজন ব্যক্তি হাফিজুর গ্রুপের এক সদস্যের স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ আরো তুঙ্গে পৌঁছায়।  একপর্যায়ে গতকাল বুধবার সকালে হাফিজুরের পক্ষের গফুর আলীর বাড়ির ওপর দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজনের উপস্থিতিতে দা, কুড়াল লাঠিসোটা সহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে বেলালের পক্ষের জন হাফিজুরের পক্ষে  জন আহত হয়। এদের মধ্যে হাফিজুরের পক্ষের তোরাব (৭৫) তার ছেলে ফজলুর রহমানকে (৪০) মুমূর্ষ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে গত বুধবার সন্ধ্যা টার দিকে তোরাব আলী এবং আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে ফজলুর রহমান সেখানে মারা যান। এদিকে নিহতের ঘটনায়  শহিদুল, মফিদুল, আনিসুর, আবুজল রুহুলকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করলেও সংঘর্ষে নেতৃত্বদানকারী বেলাল হোসেন সহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন।


দাসবেলাই গ্রামের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, হাফিজুর রহমানের লোকজন ডিসিআর কেটে সরকারি জলাশয় ভোগ দখল করতে যান। তবে বেলাল হোসেনের বাধার মুখে জলাশয় দখল করতে পারেননি হাফিজুরের লোকজন। নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছে। এরপর শুনেছি এক নারীকে উত্যক্ত করা নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে গতকাল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে হাফিজুরের পক্ষের তোরাব আলী তার ছেলে ফজলুর রহমান মারা যায়।

 

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক সংঘর্ষে নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি জলাশয় দখল করা নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ১৩ জন আহত হয়। তবে দুই জনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় রাজশাহীতে পাঠানো হয়। পরে তারা মারা যান। এরইমধ্যে পুলিশ পাঁচজনকে ঘটনায় আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। তবে হাফিজুরের পক্ষের একজন নারী তাকে উত্যক্ত করার ঘটনা উল্লেখ করে সংঘর্ষ হয়েছে বলে ভাঙ্গুড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের ঘটনা ওই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে হত্যা মামলা রুজু করা হয়। যদিও নারীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাটি প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়নি।


শেয়ার করুন