Saturday, October 10, 2020

পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগী ৫০০, কিন্তু চিকিৎসক ১৩।

মানসিক রোগের জন্য দেশের প্রথম বিশেষায়িত হাসপাতাল পাবনা মানসিক হাসপাতাল এখন নিজেই নানা সমস্যায় ভুগছে। ধার করা চিকিৎসক দিয়ে চলছে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা।

কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট, অনিয়ম-দুর্নীতি, যন্ত্রপাতির অভাবসহ নানা কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের কার্যক্রম।

জানা গেছে, বর্তমানে মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক দিয়ে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত এই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসকদের মোট পদ ৩০টি। এর মধ্যে ১৭টিই দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চারটি পদের মধ্যে তিনটিই শূন্য। ফলে মহাবিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন মানসিক বিকারগ্রস্ত রোগীদের অভিভাবকরা।

জানা গেছে, দেশের মানসিক রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৫৭ সালে শীতলাই হাউসে অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয় পাবনা মানসিক হাসপাতাল। স্থাপনের দুই বছর পর ১৯৫৯ সালে হাসপাতালটি হেমায়েতপুরে ১১১ দশমিক ২৫ একর জায়গার ওপর স্থানান্তর করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ছিল ৬০টি। পরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০টিতে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বহির্বিভাগে যেসব রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসে তাদের বেশির ভাগই ভর্তিযোগ্য। কিন্তু আসন স্বল্পতার কারণে তাদের ভর্তি করা সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে আছে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট।

হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালের ৬৪৩টি পদের মধ্যে ১৯১টিই শূন্য। মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা। ফলে কাজ চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে পাবনা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকদের কেউ কেউ এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

হাসপাতালের প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা যায়, হাসপাতালের সিনিয়র কনস্যালট্যান্টের দুটি ও ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্টের একটি পদে দীর্ঘদিন ধরে কেউ যোগদানই করছেন না। অন্য পদের মধ্যে মেডিক্যাল অফিসারের একটি, সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কারের একটি, সহকারী রেজিস্ট্রারের দুটি, ডেন্টাল সার্জনের একটি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে।

হাসপাতালের আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. মাসুদ রানা সরকার জানান, অনেকে এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন থাকতে চান না। আবার অনেকে প্রশিক্ষণ বা অন্য কারণে দীর্ঘ ছুটিতে চলে যান। ফলে চিকিৎসকদের ঘাটতি থেকেই যায়। তবে জরুরি ভিত্তিতে পাবনা মানসিক হাসপাতালের শূন্যপদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তিনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার রায় বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলো খালি থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


শেয়ার করুন