Wednesday, September 9, 2020

ভাঙ্গুড়ায় সড়ক দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ


(অনলাইন ডেস্ক)
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পাটুল বাজারে সড়কের ফুটপাত ও সরকারি সম্পত্তি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আইনুল হক জেলার ফরিদপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। আরেক দখলদার অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আইনুল হক। দুজনেই পাটুল গ্রামের বাসিন্দা। সড়ক ও সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গুড়া থেকে পাটুল হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ অভিমুখে ভাঙ্গুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কের পাটুল বাজারে সড়কের জায়গা ও সরকারি খাস সম্পত্তি দখল করে পাকা ভবন (দোকানঘর) নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আইনুল হক এবং তার প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আইনুল হক (উল্লেখ্য, উভয় অভিযুক্তের নামই আইনুল হক)। প্রথমে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সরকারি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করতে বাধা দান করেন। কিন্তু ওই দুই দখলদার কোনো কিছু তোয়াক্কা না করেই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এ অবস্থায় গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের গাঘেঁষে ও পাটুল বাজারের খাস সম্পত্তি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন দুই দখলদার। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তির নিষেধ করলেও তা অমান্য করেই ভবনের নিচের অংশের কাজ শেষ করে ফেলেছেন দখলদাররা। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরুর। তবে দিলপাশার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনেও অজ্ঞাত কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সরকারি খাস সম্পত্তি ও সড়কের জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করে দোকানে হিসেবে ভাড়া দেবেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। তারা দুজনই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাই তারা কারোর নির্দেশ মান্য করছেন না। বাধ্য হয়ে সরকারি সম্পত্তি ও সড়কের ফুটপাত রক্ষায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে এবং ইউএনওর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
পাটুল গ্রামের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, দখলকারীদের সরকারি সম্পত্তি ও সড়ক দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করতে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা তা কর্ণপাত করেননি। এ অবস্থায় একজন ইউপি সদস্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া কিছুই করার নেই।
অভিযোগের বিষয়ে দখলদার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আইনুল হক বলেন, জায়গা ফাঁকা পড়েছিল তাই ঘর তোলার কাজ শুরু করেছিলাম। এখন প্রশাসন বন্ধ করে দিলে আর কাজ করব না। অপর দখলদার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আইনুল হক একই কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পাঠানো হয়েছে। সরকারি খাস সম্পত্তি কিংবা সড়ক দখল করে ঘর নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেলে বন্ধ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শেয়ার করুন