Wednesday, September 16, 2020

দিলপাশার ও অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশংসাপত্র নিতে দিতে হচ্ছে টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অষ্টমনিষা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় দিলপাশার ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র বিতরণে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের শামীম আহমেদ নামে একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। নিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


শিক্ষার্থী অভিবাবকদের অভিযোগে জানা যায়, ২০২০ সালে অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১২ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং ২০ জন অনিয়মিত শিক্ষার্থী মানবিক, বিজ্ঞান বানিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতাধিক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।  বর্তমানে এসব শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় থেকে প্রশংসা পত্র সংগ্রহ করতে যায়। তখন এই বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পঙ্কজ কুমার পাল প্রশংসাপত্র বিতরণে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী বিথী আক্তারের অভিভাবক (বড় ভাই) শামীম আহমেদ টাকা নেওয়ার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনসার আলী বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত রশিদের মাধ্যমে প্রশংসাপত্র বিতরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও প্রশংসাপত্র বিতরণে ২০০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয় থেকে তিনটি বিভাগ থেকে নিয়মিত অনিয়মিত ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়।

দিলপাশার ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, ৩০০ টাকা না দিলে প্রধান শিক্ষক আফসার আলী প্রশংসাপত্র দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। পরে বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজকে দিয়ে ওই প্রধান শিক্ষককে ফোন করিয়ে টাকা না নেয়ার জন্য তদবির করাই। কিন্তু ওই প্রধান শিক্ষক ২০০ টাকার নিচে প্রশংসাপত্র দিবেন না বলে জানান। তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে প্রশংসাপত্র নিতে হবে।

বিষয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ বলেন, প্রধান শিক্ষক আফসার আলীকে ফোন দিয়েছিলাম টাকা না নেয়ার জন্য। তবে তিনি প্রশংসাপত্র তৈরিতে খরচের কথা বলে কিছু টাকা নেওয়ার প্রয়োজন বলে জানান।

তবে অভিযোগের বিষয়ে দিলপাশার ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার আলী টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রশংসাপত্র বিতরণে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। বিষয়টি জানার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


শেয়ার করুন