Monday, August 24, 2020

ভাঙ্গুড়ায় করোনায় বিস্তার মাদকের (দৈনিক ভাঙ্গুড়ার আলো)

করোনার স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে প্রাণ চঞ্চল হচ্ছে দেশ। এর মধ্যেই ভাঙ্গুড়া উপজেলার চিত্র খানিকটা ভিন্ন। প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টি এড়িয়ে উপজেলায় বেড়েছে মাদকের প্রবণতা। উপজেলার বেশ কয়েকটি নতুন স্পটে শুরু হয়েছে মাদকসেবীদের বিচরণ।
উপজেলা ঘুরে এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকা মাদকেসেবীদের প্রধান আড্ডাস্থল হলেও ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র থানা প্রশাসনের কারণে তা কমে গেছে। ফলে এই সকল মাদকসেবীরা বর্তমানে পৌর এলাকার বাইরে মাদক সেবনের জায়গা করে নিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলার নৌবাড়িয়া চার রাস্তার মোড় থেকে পুঁইবিল নির্মাণাধীন ব্রীজ, শরৎনগর স্টেশন এলাকা, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পারভাঙ্গুড়া গ্রামের সীমামুরো এলাকা, ভাঙ্গুড়া স্টেশন এলাকা, ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় শ্বশাণঘাট এলাকা। তবে পৌর এলাকার মেটেপুল এলাকায় এখনও মাদকের আড্ডা বসে। তবে ভয়াবহ অবস্থা পারভাঙ্গুড়া এলাকা। নির্জন এই সড়কে দিনের সব সময়টাতেই মাদকসেবীদের আড্ডা চলতে থাকে। পাশ্ববর্তী উপজেলা ফরিদপুরে যাওয়ার জন্য সময় বাঁচাতে অনেকেই এই সড়ক ব্যবহার করলেও বর্তমানে মাদকসেবীদের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন বয়সী ছেলেরা সাধারনত মোটরসাইকেল যোগে এখানে আসে। ক্ষেত্র বিশেষে ভাড়াটে মেয়ে মানুষ নিয়ে আসে বলেও জানায় এলাকাবাসী।

মূলত উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নে থাকা বাংলা মদের দোকান থেকে এরা মদ সংগ্রহ করে এই সকল এলাকায় গিয়ে সেবন করে। উপজেলার সাথে অষ্টমনিষার যোগযোগের বিভিন্ন রুট থাকায় এরা নির্বিঘে মাদক নিয়ে চলতে পারছে। এছাড়া বর্ষার সময়ে নৌকায়ও নিরাপদে পরিবহন হয় এই মাদক। এছাড়া উপজেলার সর্বত্রই পাওয়া যায় গাঁজা। আবার উপজেলার শ্বশান ঘাট এলাকায় রয়েছে অন্যতম ভয়াবহ মাদক ফেনসিডিল। বর্তমানে বাংলামদ লিটার প্রতি ২শত ৫০ থেকে ৪শত টাকা, গাঁজা প্রতি ১শত গ্রাম ১৮শত থেকে ২হাজার টাকা এবং প্রতি বোতল ফেনসিডিল ১৮শত থেকে ২৪শত টাকা পাওয়া যায় বলে জানা যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় চলছে এই পুরো সিন্ডিকেট।

পার ভাঙ্গুড়া গ্রামের ইউপি সদস্য হারুন উর রশিদ বলেন, এলাকাটা সীমান্ত এলাকা ফলে মাদকসেবীরা ইচ্ছে করলেই এই থানার সীমানা অতিক্রম করে ফরিদপুর থানায় চলে যায়। তাই এই সমস্যা সমাধানে ফরিদপুর ভাঙ্গুড়া থানা উভয়েরই উদ্যোগী হতে হবে।

এই বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানা তদন্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, ভাঙ্গুড়া থানা প্রশাসনের বর্তমান ভুমিকায় মাদক অনেকাংশে কমে গেছে। উল্লেখিত স্থান গুলোতে পুলিশের নজরদারী বাড়ানো হবে। মাদকের বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

শেয়ার করুন