Thursday, August 20, 2020

ভাঙ্গুড়ায় ঘুষের টাকার জন্য কর্মকর্তা লাঞ্চিত (ভিডিওসহ)


পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঘুষের পাঁচ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ায় উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের নিরীক্ষণ কর্মকর্তা আনছার আলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে পাথরঘাটা গ্রামে ঘটনা ঘটে। ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আনছার একই গ্রামের তজিম উদ্দিনের (মৃত) ছেলে। 
ভিডিও
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনছার উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের অফিস সহকারী আবু সাঈদ সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাজিউল ইসলামসহ পাঁচ যুবকের কাছ থেকে পাঁচ থেকে আট লাখ টাকা করে ঘুষ নেন। গত বছরের জুন মাসে এই টাকা নেন তাঁরা। চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে তিনজনের বাড়িই পাথরঘাটা গ্রামে। একপর্যায়ে তাঁরা প্রতারণার বিষয়টি টের পান। এর পর থেকে আনছারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চেয়েও পাচ্ছিলেন না রাজিউল।
এর জেরে ছয় মাস আগে তিনি তাঁর পরিবারসহ গ্রামবাসী আনছারের বাড়ি ঘেরাও করে, তবু টাকা ফেরত পাননি রাজিউল। এই নিয়ে ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে গতকাল রাজিউল তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির সামনে আনছারকে লাঞ্চিত করে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
আনছারকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রাজিউল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রতিবেশী আনছারকে বিশ্বাস করে সরকারি চাকরি পাওয়ার আসায় জমি-গরু বিক্রি করে তাঁর বাড়িতে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দিই। পরে শিক্ষা অধিদপ্তরে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা বলে আমাকে ঢাকা পাঠায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারি আমি প্রতারকচক্রের জালে ধরা পড়েছি। কিন্তু এই চক্র আমাকে বাড়িতে ফিরতে না দিয়ে বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করতে বাধ্য করে। পরে আমি সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসি। এখন টাকার জন্য আনছারের কাছে ধরনা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু টাকা পাচ্ছি না। তাই তাকে পথরোধ করে টাকা ফেরত চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনছারের মোবাইল নম্বরে কল করলে ফোন রিসিভ করেন তাঁর স্ত্রী লিপি পারভিন। স্বামীর অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজিউল চাকরির জন্য (পাথরঘাটা) গ্রামের ইমরানের কাছে টাকা দিয়েছিল। ইমরান নিরাপত্তার কথা ভেবে সেই টাকা আমাদের বাড়িতে রেখেছিল। পরে ইমরান সেই টাকা নিয়ে যুব উন্নয়ন অফিসের অফিস সহকারী আবু সাঈদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। টাকা নিয়ে সাঈদের চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের কিছুই জানা নাই। রাজিউলের পরিবার বারবার মিথ্যা অভিযোগ তুলে ষড়যন্ত্র করে আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করছে। একপর্যায়ে (গতকাল) বুধবার লাঞ্ছিত  করে।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন