Thursday, August 13, 2020

ভাঙ্গুড়ায় সরকারি কলেজ মাঠে ঘাসের চাষ


করোনাভাইরাসের কারনে কলেজ বন্ধ থাকায় পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঐতিহ্যবাহি সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ মাঠে ঘাসের চাষ করেছেন কর্তৃপক্ষ।
পরে তা গোখামারিদের নিকট বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে সামাজিক দুরত্ব মানাতেই স্বাস্থ্য বিধির কারণে তিনি কলেজ মাঠে ঘাসের চাষ করার অনুমতি দিয়েছেন।
কলেজের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা মাঠে ঘাস চাষ করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ। কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সারাদেশের যত গুলি কলেজ সরকারি করণের ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের মধ্যে এই কলেজটিও জাতীয়করণের আওতায় আসে।
কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রদূর্ভাবের কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সরকার কয়েক দফা ছুটি বৃদ্ধি করে ৩১ শে আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
সে কারণে সারদেশের ন্যায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিরও ক্লাস বন্ধ রয়েছে।
সরকার ঘোষিত ছুটির এই সুযোগে কলেজের প্রাচীর ঘেরা বিশাল মাঠে মাসকালাই ঘাসের চাষ করেছেন এবং ঘাসগুলি গোখামারিদের নিকট বিক্রি করেছেন কর্তৃপক্ষ।
সরাকারি কলেজের মাঠে এভাবে ঘাসের চাষ করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বুধবার সরেজমিন সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজে গিয়ে দেখা যায় প্রচীর ঘেরা দৃষ্টিনন্দন ভবনগুলি শিক্ষার্থী শুণ্যতায় সুনসান নিরবতা।
লেহার প্রধান ফটকের ছোট দরজা খেলা রয়েছে। কলেজটির প্রায় একর মাঠ জুড়ে হাটু পরিমান মাসকলাইয়ের ঘাস। মাঠের দক্ষিণ পাশ থেকে ২৫/৩০ টি গরু সারিদ্ধভাবে বেঁধে রেখে তা খাওয়ানো হচ্ছে।
জানা গেছে, খামারিদের নিকট ঘাস গুলি কলেজ কর্তৃপক্ষ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহি সরকারি কলেজের মাঠে বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষ করে তা গোখামারিদের নিকট বিক্রি করায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
এবিষয়ে সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুজ্জামান বলেন, করোনভাইাসের কারণে কলেজ মাঠে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিরা ঘাসের চাষ করেছেন।
যা ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে। কলেজ মাঠের ঘাস বিক্রি করে যা আয় হবে তা দিয়ে কলেজের বাগান করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে কত টাকা ঘাস বিক্রি করেছেন ? এমন প্রশ্ন তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
বিষয়টি জানতে সরকারি হাজী জামাল উদ্দীন কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকারি কলেজের প্রাচীর বেষ্ঠিত মাঠে ঘাসের চাষ করার বিষয়ে তিনি অবগত নন, তবে বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান।

শেয়ার করুন