Monday, July 6, 2020

ভাঙ্গুড়ায় নিবন্ধন ছাড়াই রোগী দেখছেন চক্ষু সার্জন


(ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি)
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন ছাড়াই চক্ষু সার্জন সেজে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রোগী দেখছেন আলমগীর হোসেন (৪৬) নামে এক চিকিৎসক। প্রতি সপ্তাহে শনিবার বিকালে তিনি বসেন পৌরসভার রেল চত্তরে রুমি ড্রাগ হাউজে। এদিকে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে রোগীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে রোগী দেখায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় অবিলম্বে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন উপজেলাবাসী।
স্থানীয় ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুমি ড্রাগ হাউজের মালিক আব্দুর রব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করেন যে, সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল থেকে আগত চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাঃ মোঃ আলমগীর হোসেন প্রতি শনিবার বিকালে রুমি ড্রাগ হাউজে রোগী দেখবেন। এ কথা শুনে অনেক রোগী এখানে ভীর জমান। পরে জানা গেল তিনি আসলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নন, তিনি একজন প্যারামেডিক্স।
বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর নীতিমালা অনুযায়ী বিএমডিসির নিবন্ধন ব্যতীত কেহ ডাক্তার পরিচয়ে কোন রোগী দেখতে পারে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালায় বলা হয় বিএমডিসি অনুমোদিত যোগ্যতা ব্যতিরেক বানিজ্যিক ভাবে চক্ষু চিকিৎসা এবং চশমার ব্যবস্থাপত্র দেওয়া আইনের বহির্ভূত। কিন্তু সে বিএমডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিয়মিত ভাঙ্গুড়ার রুমি ড্রাগ হাউজে ও চাটমোহরের জিরো পয়েন্টের হারডো এনজিও অফিসে চেম্বার খুলে চক্ষু রোগী দেখছেন।
জানতে চাইলে চিকিৎসক নামধারি আলমগীর হোসেন বলেন, আমি একজন প্যারামেডিক্স ঈশ্বরদীর একটি চক্ষু হসপিটালে কর্মরত আছি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে চক্ষু রোগী দেখে আসছি, এখন থেকে ভাঙ্গুড়ায়ও নিয়মিত রোগী দেখব।
সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের চীফ কনসালট্যান্ট ডাঃ মোঃ নাজমুল হক বলেন, আলমগীর হোসেন এক সময় সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের প্যারামেডিক্স ছিলেন, তবে তিনি ডাক্তার নয় । তাই কোন চক্ষু রোগীর চিকিৎসা দিতেও তিনি পাররেন না।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ হালিমা খানম বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলে কোন ব্যবস্থা নিতে পারবোনা।
ভুয়া চিকিৎসক সেজে রোগী দেখা এবং একটি স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী তাকে এনে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর সামীল। এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়াবাসীল দাবী উভয় ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হোক।

শেয়ার করুন