Wednesday, July 29, 2020

ভাঙ্গুড়ায় বানভাসি ৬ জেলে পরিবার ত্রাণ সহায়তা পাইনি

অনলাইন ডেস্ক
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিদ্যালয় ভবনে আশ্রয় নেয়া বানভাসি ৬ টি জেলে পরিবার গত দুই সপ্তাহে কোনো প্রকার সহায়তা পায়নি। এতে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব পরিবারের সদস্যরা। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কোনো লোকজনও তাদের খোঁজ-খবর নেয়নি। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত অষ্টমনিষা, খানমরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়নের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। তবে এসব এলাকার বসতভিটা উঁচু হওয়ায় এখন পর্যন্ত বন্যার দুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু অষ্টমনিষা ইউনিয়নের রুপসি গ্রামে জেলে পল্লীর গোপাল হালদার, মিত্তি হলদার, কানাই হালদার, নিমাই হালদার, কৃত্ত  হলদার ও আশরাফ আলীর বসত ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে তারা বাড়িঘর ছেড়ে প্রায় ২ সপ্তাহ আগে গ্রামের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই তলা ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ না থাকায় জেলে পরিবারগুলোর সদস্যরা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কেউ তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।

রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অসহায় ও দুস্থ জেলে সম্প্রদায়ের ৬ টি পরিবার স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যরা দিন আনে দিন খায়। বর্তমানে কাজ না থাকায় তারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। অথচ কেউ তাদের কোনো খোঁজ নেয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বানভাসি এসব মানুষের স্কুলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'আমি কিছুদিন ধরে ভাঙ্গুড়ার বাইরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তাই বানবাসি মানুষদের খোঁজখবর নিতে পারিনি। তবে দুই-একদিনের মধ্যে এলাকায় ফিরে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্যাদুর্গত জেলে পরিবারগুলোকে ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করব।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্কুল ঘরে জেলে পরিবার আশ্রয় নেয়ার বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। জানলে অবশ্যই তাদেরকে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতাম। এখন যত দ্রুত সম্ভাব স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অথবা অন্য কর্মকর্তার মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন