Thursday, June 4, 2020

অনিশ্চিত পড়াশোনা হাত হারানো ভাঙ্গুড়ার আব্দুল্লাহ’র

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এসএস পাইপের কাজের সময় বৈদ্যুতিক শকে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে বাম হাত হারিয়েছেন উপজেলার ভদ্রপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ ওরফে আকাশ (১৬) নামে এক কিশোর। সে এই বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩.২৮ পয়েন্ট নিয়ে এসএসসি পাশ করলেও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ পড়াশোনা।
আব্দুল্লাহ ঐ মহল্লার দরিদ্র কাঠমিস্ত্রি মোকাররম হোসেনের ছেলে। বর্তমানে সে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার ভবিষ্যৎ পড়াশোনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল্লাহ ছোটবেলা থেকেই দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধকরেই উপজেলার রুপসী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে। পরিক্ষা শেষে সবাই অবসর কাটালেও সেই সুযোগ ছিল না আব্দুল্লার। পরিবারকে সহায়তা করতে সে উপজেলার বগাতিয়া পাড়া মহল্লার জহুরুণ ইসলামের মালিকানাধীন একটি স্টীল কারখানায় কাজ নিয়ে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে এসএস (স্টেইনলেস স্টীল) পাইপ ওয়েল্ডিংয়ের করতে শুরু করে। তেমনি কাজের জন্য সে গত মে মাসের ১২ তারিখে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলায় একটি বাসার তিনতলায় এসএস পাইপ ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিলেন। তার হাতে থাকা পাইপ বিল্ডিংয়ের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া ৪৪০ ভোল্টের লাইনে হঠাৎ লেগে গেলে তার বাম হাত, গলা, পিঠের বাম অংশ ও ডান হাত মারাত্মক ভাবে পুড়ে যায়।
পরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার শেষে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৪ মে তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাম পাতে পচনধরে গেলে ২০ মে তার বাম হাত কনুইয়ের নিচ থেকে কেটে বাদ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ডান হাতেও সে আর স্বাভাবিক কাজ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। ঐ দিনই তার পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে সে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩.২৮ পয়েন্ট নিয়ে পাস করে এখনও বাকি রয়েছে বাম কাঁধ ও ডান হাতের অপারেশন। আব্দুলাহর বাবা দরিদ্র মানুষ ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাম কাঁধে আরও একটা বড় অপারেশন করতে হবে সেখানেও অনেক টাকা প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কমনা করছেন।
আব্দুলার বাবা মোকাররম বলেন, আব্দুলার চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে প্রতিদিনই অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। সমাজের বিত্তবানেরা যদি সহায়তা করে হয়তো আমার সন্তানটাকে সুস্থ্য করে তুলতে পারতাম।
স্টীলকারখানা মালিক জহুরুল ইসলাম জানান, দূর্ঘটনার পর থেকে আমি তার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর ও সহায়তার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আব্দুল্লাহ সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করবো।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে যতটুকু সম্ভব আব্দুল্লাহর পাশে থাকবো এছাড়া সমাজসেবা কার্যালয়ের ম্যধ্যমে তাকে সহায়তার চেষ্টা করবো যাতে করে আব্দুলাহ তার পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারে।

শেয়ার করুন