Thursday, June 4, 2020

বাসায় থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনামুক্ত প্রকৌশলী

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় করোনা উপসর্গ নিয়েও বাসায় থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আক্রান্তের ২৫ দিন পরেই সুস্থ হয়েছেন প্রকৌশলী শাকিল আবু সায়েম (৩০)। ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খানম বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকৌশলী শাকিল ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের শরৎনগর বাজারের বাসিন্দা। এনিয়ে এপর্যন্ত ভাঙ্গুড়ায় সাতজন করোনা আক্রান্তের মধ্যে তিনজন সুস্থ হলেন।
শাকিলের পরিবার জানায়, প্রকৌশলী শাকিল ঢাকায় মেঘনা গ্রুপ অফ কোম্পানিতে এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করতেন। এক পর্যায়ে ২ মে তার শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে। এতে সে ঢাকার সরোওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসককে দেখালে তাকে করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন। তখন সে ঢাকার বিভিন্ন করোনা পরীক্ষাকেন্দ্রে চারদিন যাবত ঘুরে ৯ মে মহাখালীর ন্যাশনাল পোলিও এন্ড মিসেলস ল্যাবরেটরীতে (এন পি এম এল) নমুনা দিতে সক্ষম হন। পরের দিন সে ঢাকা থেকে ভাঙ্গুড়া চলে আসে। এরপর ১১ মে ঢাকার ওই প্রতিষ্ঠানটি মোবাইল ফোনে শাকিলকে করোনা পজিটিভ বলে জানিয়ে অফিসে গিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করতে বলেন। তখন সে বাড়িতে এসেছে জানালে আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেন ন্যাশনাল পোলিও এন্ড মিসেলস ল্যাবরেটরী কর্তৃপক্ষ। ওইদিন ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসন প্রকৌশলী শাকিলের বাড়ি লকডাউন করে দেন। এরপর দীর্ঘ ২৫ দিন ধরে সে বাসাতে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছেন। পাশাপাশি তিনি পাবনা সদর হাসপাতালের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক জাকারিয়া মানিক এবং ঢাকার একজন চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন ঔষধ সেবন করেছেন। এ অবস্থায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইবার তার নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল নেগেটিভ পাওয়া যায়।
প্রকৌশলী শাকিল আবু সায়েম বলেন, করোনা আক্রান্ত হলেও কখনও মনোবল হারাইনি। বাসায় থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি। সর্দি এবং কাশি বেশি হলেই ৭/৮ ফোটা ভায়োডিন দিয়ে দিনে তিনবার কুলি করতাম। এছাড়া প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে চা, গরম পানি, লেবু ফলমূল খেয়েছি। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘন্টা করে রোদ পোহাতাম। এছাড়া ঢাকার একজন চিকিৎসক ও পাবনা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জাকারিয়া মানিকের পরামর্শ মতে কিছু ওষুধ খেয়েছি। এতে সুস্থ হয়ে উঠেছি।


ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খানম বলেন, ভাঙ্গুড়ায় সাতজন আক্রান্তের মধ্যে শাকিলের মধ্যেই করোনার উপসর্গ স্পষ্টভাবে দেখা দিয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে মেনে চলার কারণ সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। যদিও তিনি বিভিন্ন ওষুধপত্র সেবনের কথাও বলেছেন। কিন্তু করোনা প্রতিরোধের জন্য কোন প্রতিষেধক আজও তৈরি হয়নি।

শেয়ার করুন