Monday, May 18, 2020

পাবনায় জীবাণুমুক্তকরণ ফগ গেট, শঙ্কামুক্ত চিকিৎসক-রোগীরা



পাবনা বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেকে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখার জন্য হাসপাতালের প্রবেশপথে স্থাপন করা হয়েছে জীবাণুমুক্তকরণ ফগ গেট। ইন্টারনেট দেখে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কাজটি করেছেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুল হালিম।

উপজেলা পর্যায়ে প্রথমবারের মতো এই জীবাণুমুক্তকরণ প্রবেশ গেট স্থাপনের ফলে শঙ্কামুক্ত বলে মনে করছেন চিকিৎসক নার্স ও রোগীরা। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে নেয়া হয়েছে নানা ধরনের পদক্ষেপ। আর এ ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোতে সেবা নিতে আসা রোগী বা তার স্বজনরা জীবণমুক্ত না হয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করছেন নিয়মিত। 

এই কারণে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ এই সেবার সাথে সংশ্লিষ্টদের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। তাই ইন্টারনেট দেখে দেশিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবাণুনাশক স্প্রে গেট তৈরি করেছেন বেড়া হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল হালিম।

হাসপাতালে প্রবেশের সময় হাত ধোয়ার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত গেট দিয়ে প্রবেশ করলে পা থেকে মাথা পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত হচ্ছে। স্বল্পমূল্যে এই গেট তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র দশ হাজার টাকা। স্প্রে বা ফগ গেট তৈরির উদ্যোক্তা ডা. আব্দুল হালিম বলেন, উপজেলা পর্যায়ে এই প্রথমবারের মতো জীবাণুমুক্ত গেট স্থাপন করা হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। 

পানিতে জীবাণু দূর করতে ব্লিচিং পাউডারের পরিবর্তে ব্যবহার করেছেন ডিটারজেন্ট পাউডার। তাই স্বল্প খরচে জীবাণুমুক্ত এই গেট স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তিনি। বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম মিলন মাহমুদ বলেন, বর্তমানে করোনার কারণে রোগীর চাপ অনেকটা কমে গেছে। তবে ভাইরাসের আতঙ্ক কাজ করছে সবার মধ্যে। 

এখন যারা চিকিৎসা নিতে আসছেন, জীবাণুনাশক স্প্রে মেশিন বসানো ফগ গেট থাকার ফলে জীবাণুমুক্ত হয়ে হাসপাতালে প্রবশে করছেন তারা। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমরা যারা চিকিৎসাসেবার সাথে আছি, তাদের মধ্যেও ভাইরাসের শঙ্কা কমেছে।

ফগ গেট নিয়ে পাবনা সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, পাবনা জেলাতে উপজেলা পর্যায়ে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রথম জীবাণুমুক্ত গেট স্থাপন করা হয়েছে, আমি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আমার বেশ ভালো লেগেছে কাজটি। জেলার প্রতিটি হাসপাতালে সরকারিভাবে এই কাজটি করা গেলে ভালো হতো। এই জীবাণুমুক্ত গেট স্থাপনের ফলে এখানে আগত সাধারণ রোগীসহ চিকিৎসকদের মনে সাহস বেড়েছে।


শেয়ার করুন