Sunday, May 31, 2020

ভাঙ্গুড়ায় পুঁইবিলে বাঁধে ফাটল : ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

(অনলাইন ডেস্ক) :
উজান থেকে গড়ে আসা বন্যার পানিতে, গুমাণি নদীর পানি ফুঁসে ওঠার কারনে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পুঁইবিল বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধ অভ্যন্তরের উপজেলার দিলপাশার,অষ্টমণিষা ও খানমরিচ ইউনিয়নের ৩ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা।
মাগুড়া গ্রামের জোতদার কৃষক মো: আলাউদ্দিন জানান,বাঁধের অবস্থা খুবই ঝুঁকিপুর্ণ । তাই এই মূহুর্তে বাঁধ ধ্বসে পানি প্রবেশ করলে পুরো মাঠের পাকা ধান তলিয়ে যাবে। এ ছাড়া এখনই ভারী বর্ষণ হলে কোনো ভাবেই এই দুর্বল বাঁধ টিকবে না।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ রক্ষার সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে। রবিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বন্যার পানি থেকে বাঁধের উচ্চতা মাত্র ২ফুট অবশিষ্ট আছে। এ অবস্থায় পাউবি বাঁধের এক পাশে বাঁশ ও চাটাই দিয়ে পেলা দিচ্ছে এবং নদীর দিকে বালির বস্তা ও পলিথিন পেপার দিয়ে প্রতিরোধ দেওয়াল তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু পঁইবিল শ্লুইজ গেটের ফাঁকা অংশ দিয়ে মাঠে পানি প্রবেশ বন্ধের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পাউবি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে নিম্ন এলাকায় ইতোমধ্যে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। খানমরিচ ইউনিয়নের কৃষক শরীফ খান জানান,হান্ডিয়াল ব্রিজের নিচ দিয়ে দ্রুত গতিতে বন্যার পানি চলে আসায় এখানকার বিলা জমির ধান ইতোমধ্যে ডুবে গেছে।
জানা যায়,সম্প্রতি পুঁইবিল বাঁধের ভাঙ্গা অংশে বাঁধ নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। ঠিকাদার ১৫/২০দিন পুর্বে কাজটি শেষ করে ।  ফলে বাঁধের মাটি শক্ত হতে পারেনি। এ কারণে বন্যার পানির চাপে বাঁধ ধ্বসে যাবার উপক্রম হয়।
কৃষি বিভাগ বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে আনলে তাদের তৎপরতা শুরু হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার এনামুল হক বলেন,এখানে জমির বেশির ভাগ ধান পেকে গেছে। কৃষকরা ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু করেছেন। তাই এক সপ্তাহ সময় পেলেই ধান কেটে তাদের খোলায় তুলতে পারবেন। অতপর মাড়াই করে সোনালী ফসল ঘরে তোলা সহজ হবে।
বাঁধের অবস্থা সরেজমিন দেখতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তা রাজশাহী বিভাগের প্রিধান প্রকৌশলী এ টি এম শফিকুল হক ও বগুড়া জোনের সুপারিনটেনডেন্ট ই্িঞ্জনিয়ার ড.ফায়েজ ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পু্ইবিল স্ললুইজ গেটের দরজাও দ্রুত ঠিক করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন বলে জানাগেছে।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: আজাহার আলী,ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো: বাকি বিল্লাহ,ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান গত শনিবার সংস্কার কাজ পরিদর্শন করে বাঁধ রক্ষার জন্য সকল প্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার এনামুল হকের নেতৃত্বে কৃষি বিভাগও সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সুস্থির কুমার জানান,সহসাই অতি বন্যা বা ভারী বর্ষণের মত প্রাকৃতিক কোনো দূর্যোগে পতিত না হলে এবারের মত ওই এলাকার ফসল রক্ষা পাবে বলে আশা করছি।

শেয়ার করুন