Previous
Next

সর্বশেষ

Friday, June 11, 2021

ট্রাকের নিচে যুবককে ফেলে পালালেন চালক

ট্রাকের নিচে যুবককে ফেলে পালালেন চালক

 

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দ্রুত গতির একটি ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে সুমন (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে টেবুনিয়া-বাঘাবাড়ী মহাসড়কে উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন পার্শ্ববর্তী চাটমোহর উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। সে পেশায় একজন ধান ব্যবসায়ী।



প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন ধান কেনার উদ্দেশ্যে করিমন (শ্যালো ইঞ্জিন চালিত) গাড়িতে চড়ে শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে সকাল ১১ টার দিকে  ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামে পৌঁছালে ফরিদপুর থেকে চাটমোহর গামী দ্রুতগতির একটি ১০ চাকার ট্রাকের ধাক্কায় করিমন থেকে পড়ে চাকার নিচে পিষ্ট হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়। এ সময় ট্রাকের চালক ও হেলপার ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।


ভাঙ্গুড়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই নাজমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক হেলপার ও চালকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়ায়  ইয়াবাসহ মা-ছেলে আটক

ভাঙ্গুড়ায় ইয়াবাসহ মা-ছেলে আটক


পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ইয়াবা মামলায় জেলে থাকা হোসেন আলীর (৪৫) স্ত্রী আজিরন খাতুন (৩৮) ও ছেলে আশিককে (২০) ১১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ। 

পাবনা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খানের (বিপিএম) নির্দেশনায় ভাঙ্গুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম বৃহস্পিতার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ইয়াবা ব্যবসায়ী মা ও ছেলেকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন। আটকের বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের বরাতে জানা যায়, উপজেলার কুখ্যাত ইয়াবা করাবারী হোসেন আলী ছয় মাস আগে পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে রয়েছে। এছাড়া অন্য একটি মামলায় ছয় মাসের সাজা খাটছে হোসেন। 

তার অবর্তমানে  ইয়াবার কারবার সচল রাখেন তার স্ত্রী আজিরন ও ছেলে আশিক। তাদের পাশ্ববর্তী চাটমোহর উপজেলায়ও ইয়াবা ব্যবসা রয়েছে। অল্প কিছুদিন আগে আশিক মাদক মামলায় জেল থেকে ছাড়া ফিরেছে। এরপর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আরও বেপরোয়াভাবে ইয়াবার কারবার চালাতে থাকেন তারা। 

বিষয়টি জানাতে পেরে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করে। অবশেষে বৃস্পতিবার রাত সাড়ে এগাগোটায় উপজেলার সদর ইউপির নৌবাড়িয়ায় আজিরনের নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করে। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ১১৫ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করে।

ভাঙ্গুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ। 

তিনি আরও বলেন, আটক হওয়া পরিবারটি সম্পূর্ণরুপে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন তাদের গতিবিধি দেখা হচ্ছিল হাতেনাতে ধরতে। অবশেষে তার ফল পাওয়া গেছে। আশাকরি বিজ্ঞ আদালত তাদের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। 

Thursday, June 10, 2021

যেতে হবে না ভূমি অফিস

যেতে হবে না ভূমি অফিস

যাঁর একখণ্ড ভূমিও আছে অথচ তাঁকে কখনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি, এমনটা বিরল। এই খাতে দুর্নীতির বদনাম বহু পুরনো। দেশে ভূমিসংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যাও প্রচুর। তবে এসবের অবসান চাইছে সরকার। ভূমিসেবা সহজীকরণসহ একে হয়রানিমুক্ত করতে পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাই ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এতে কোনো ভূমির মালিককে আর ভূমি অফিসেই যেতে হবে না।

তাঁরা বলছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজড হলে এসংক্রান্ত বহু জটিলতা দূর হবে। দুর্নীতি-অনিয়মও শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করছেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, জমি বেচাকেনা, রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খাস বা পরিত্যক্ত জমি, পুকুর বা হাট-বাজারের ইজারা, ওয়ারিশান জমি হস্তান্তর, জমি বন্ধক—কোনো কিছুতেই আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। এককথায় ‘জমি যার রেকর্ড তার’ বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

গত ৬ জুন শুরু হয়েছে ভূমিসেবা সপ্তাহ, শেষ হবে ১০ জুন। এ উপলক্ষে ডিজিটাইজেশন প্রকল্পের গতিও বেড়েছে। আগামী জুলাই থেকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ হওয়ার কথা। তবে বিষয়টি আরো কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

kalerkanthoভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে জমির মালিক ভূমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধ করতে পারবেন। এ জন্য ১০টি মডিউলসমৃদ্ধ ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (এলআইএমএস) নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। মডিউলগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমি নামজারি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা, ভূমি নামজারি পর্যালোচনা ব্যবস্থাপনা, ভূমি মিস কেস ব্যবস্থাপনা, বাজেট ব্যবস্থাপনা, খাজনা সনদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ইত্যাদি। এর সব কটির কাজই শেষ পর্যায়ে।

সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের চ্যালেঞ্জিং দিক হচ্ছে খতিয়ানগুলো ডিজিটাইজ করা। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য টিভি ও দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রচার করা হচ্ছে। নামজারি করে দ্রুত তথ্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায় মৃত বাপ-দাদার নামে জমির মালিকানা উঠে যাবে।

এ বিষয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই প্রকল্পের প্রথম কাজ হলো সব জমির মিউটেশনের খতিয়ান তথা মিউটেড খতিয়ান, সার্ভের খতিয়ান ডিজিটাইজ করা। এই কাজের জন্য এসি (ল্যান্ড) থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৭-১৮টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাভার মৌজায় একটা প্রকল্প রয়েছে, যেখানে অনলাইনের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে।’

এখন পর্যন্ত নিজেদের সফল দাবি করে তিনি বলেন, ‘জমি যার রেকর্ড তার—এমন সহজীকরণের জন্য ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। অনলাইনে দাগ, খতিয়ান চাপলেই মালিকের তথ্য চলে আসবে।’

সেবার মানে পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টার কথা উল্লেখ করে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে, সব ধরনের সেবা অনলাইনে পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে দুটি বিষয় হবে—ভূমি অফিসের অবৈধ লেনদেনের বদনাম ঘুচবে এবং যেকোনো নাগরিক পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে ভূমিকর দিতে পারবেন। এ ছাড়া জমির ক্রয়-বিক্রয়ের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন। তাঁর জমির নামজারি ঠিক আছে কি না, সেটাও দেখতে পারবেন।’

জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান গত রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনলাইনের তথ্য হালনাগাদে ব্যক্তির ভোটার আইডি অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ভোটার আইডিতেও ভুল থাকলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশোধনের সুযোগ থাকবে। সব মানুষের তথ্য যদি নিতে যাই, তাহলে অনেক সময়ের ব্যাপার। এ কারণে নাগরিকদের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু অসম্ভব নয়। অনেক কাজ এগিয়ে গেছে। শুধু কর না, আমরা চাচ্ছি মানুষকে যাতে আর ভূমি অফিসেই যেতে না হয়। এ জন্য সব ধরনের কাজ অনলাইনভিত্তিক করার কাজ চলছে।’

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এরই মধ্যে নতুন সব নামজারির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। চার কোটি ৭৬ লাখ পরচার ডাটা সংগ্রহে রয়েছে। যাঁদের তথ্য সংগ্রহে আছে তাঁরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গেলে যেকোনো জায়গা থেকে তা দেখতে ও ডাউনলোড করে নিতে পারবেন বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, ভূমি মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে সব জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে, অনলাইনে ভূমিকর দিতে মালিককে প্রথমে অ্যাপ্লিকেশনে নিবন্ধন করতে হবে। একবারই নিবন্ধন করতে হবে। এ জন্য www.land.gov.bd ও www.ldtex.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে ভোটার আইডি, মোবাইল ফোন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিতে হবে। অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে যেকোনো ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, এনআইডি, পূর্ববর্তী দাখিলার কপি এবং প্রয়োজনে খতিয়ানের কপি ও দলিল নিয়ে গেলে বিনা খরচে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। এর কোনোটিই না করতে পারলে ৩৩৩ বা ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে কল সেন্টারের মাধ্যমে এনআইডি, জন্ম তারিখ ও জমির তথ্য দিলে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রায় তিন বছর আগে উদ্যোগ নেয়। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে দ্রুততার সঙ্গে সরকারের এ উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ, উপায়, একপে ও বিকাশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এসব সেবাকেন্দ্রের যেকোনো শাখা থেকে ভূমিসেবার যেকোনো ফি দেওয়া যাবে।

Tuesday, June 8, 2021

পাবনার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ উপজেলা ভাঙ্গুড়া, বিদায়ী সংবর্ধনায় ডিসি

পাবনার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ উপজেলা ভাঙ্গুড়া, বিদায়ী সংবর্ধনায় ডিসি

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

চলনবিল বিধৌত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার আয়তন ১৩৪. ৯ বর্গকিলোমিটার। এই আয়তনে প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার মানুষের বসবাস। জনসংখ্যা ও আয়তনে জেলার সবচেয়ে ছোট উপজেলা এটি। তবে ভৌগলিক, বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল ও গুমানি নদী উপজেলার গ্রাম অঞ্চলকে দিয়েছে নৈস্বর্গিক রুপ। এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো সহ-অবস্থানে মিলেমিশে কাজ করে। এতে জেলার যেকোনো উপজেলার চেয়ে এই উপজেলায় মানুষের মধ্যে হানাহানি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক কম। এ কারণে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মানুষ বসবাসের ক্ষেত্রে জেলার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ উপজেলা বলে জেলার সর্বমহলে স্বীকৃত। আজ সোমবার পাবনার জেলা প্রশাশক কবীর মাহমুদ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই কথাটি অকপটে স্মরণ করে ভাঙ্গুড়াবাসীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন। সোমবার বিকালে এই বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান। এসময় ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ, পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ রঞ্জু, আজিদা পারভীন পাখি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল জব্বার ছানা, ভাঙ্গুড়া হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান, ভাঙ্গুড়া টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ বদরুল আলম সহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও রাজনীতিবিদ বক্তব্য রাখেন।

ইতিহাস মতে, স্বাধীনতার দশ বছর পরেও জেলার ফরিদপুর উপজেলার অন্তর্গত ভাঙ্গুড়া একটি ইউনিয়ন ছিল। স্বাধীনতার পর থেকেই ভাঙ্গুড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন, তৎকালীন ভাঙ্গুড়ার চেয়ারম্যান ও বর্তমান সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের পিতা আলহাজ্ব মুহসিন আলী ও সেসময়ের ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার ছানা ভাঙ্গুড়াকে উপজেলায় রূপান্তরিত করতে নানামুখী উদ্যোগ নেন। তাদের এই উদ্যোগে ভাঙ্গুড়ার বিশিষ্টজনেরা সমর্থন দেন। এর প্রেক্ষিতে আশির দশকের শুরুতে ভাঙ্গুড়া একটি স্বতন্ত্র উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ফরিদপুর, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা নিয়ে সংসদীয় একটি (পাবনা-৩) আসন। ৪ লাখ ভোটারের এই আসনের মধ্যে মাত্র ৯৬ হাজার ভোটারের সবচেয়ে ছোট উপজেলার বাসিন্দা আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। এরপর ২০০৯ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে একটানা ১২ বছর সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণে পাবনা-৩ আসনে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। এছাড়া ভাঙ্গুড়া উপজেলার চলন বিলের মধ্যে দিয়ে ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গুড়া-নওগাঁ সড়ক নির্মাণ করে এলাকার উন্নয়নেও তাক লাগিয়েছেন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখতে ভাঙ্গুড়া উপজেলাতে সাধারণ ভোটাররা বিগত স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে দল-মত-নির্বিশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে। এ কারণে ভাঙ্গুড়াকে সুখী মানুষের একটি উপজেলা প্রতিষ্ঠা করায় জনগণের দাবির মুখে সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের জৈষ্ঠ্য ছেলে গোলাম হাসনাইন রাসেল ২০১৫ সালে ভাঙ্গুড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এরপর থেকেই ভাঙ্গুড়ায় উন্নয়ন ও অগ্রগতি আরো দ্রুতগতিতে ত্বরান্বিত হতে থাকে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন ও তার ছেলে মেয়র গোলাম হাসানের রাসেলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটেছে এই উপজেলায়। সোমবার ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের বীর মুক্তিযুদ্ধা এম হোসেন আলী অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসকের বিদায়ী সংবর্ধনা ও সকল স্তরের মানুষের মত বিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথাগুলো তুলে ধরেন।

Monday, June 7, 2021

ফরিদপুরে গলায় ফাঁস নিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ফরিদপুরে গলায় ফাঁস নিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

পাবনার ফরিদপুরে মোছাঃ বুলবুলি খাতুন (১৭) নামের এক গৃহবধু গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।


সোমবার (০৭ মে) দুপুর একটার দিকে ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। আজ সোমবার (০৭ মে) সন্ধার সময় লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৃত বুলবুলি খাতুন উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়নের মাছুয়াঘাটা  গ্রামের মোঃ রাজু  আহমেদের স্ত্রী।


পরিবার ও থানা সুত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে গোসল দেওয়ার জন্য বুলবুলিকে ডাকতে থাকে তার মা ঘর থেকে কোনো শব্দ না আসলে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে ডুকে দেখে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে ঝুলছে। তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সে মারা যায়।

আরও জানা যায় রাজুর সাথে প্রেম করে ৩ মাস হয়েছে তাদের বিয়ে হয়েছে।


এ ব্যপারে রাজুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমার সংসারে কোনো ঝগড়া বিবেদ নাই। কি জন্য আমার বউ ফাঁসি নিলো সেই জানে আর আল্লাহ জানে।

এ ব্যপারে ফরিদপুর থানার এস আই (উপ পরিদর্শক) মোঃ জামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক সমস্যার কারণে সে আহত্মহত্যা করতে পারে। 


লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মুল কারণ জানা যাবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলেও জানান তিনি।

Saturday, June 5, 2021

ভাঙ্গুড়ায় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ও খামারি মেলা

ভাঙ্গুড়ায় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ও খামারি মেলা

 
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গবাদি পশু পালনে খামারিদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে দিনব্যাপী প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ও খামারিদের নিয়ে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের আয়োজনে শনিবার সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই প্রদর্শনী ও মেলা শুরু হয়। শতাধিক খামারির উপস্থিতি ও গবাদিপশুর প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলে এই প্রদর্শনী ও মেলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যৌথভাবে উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ ও ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিদা পারভিন পাখি ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) উপস্থিত ছিলেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে আড়াই হাজার গবাদি পশুর খামার রয়েছে। গবাদি পশুর সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার। এসব খামার থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। দেশের শীর্ষ দুগ্ধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত কোম্পানি এই উপজেলায় অর্ধ শতাধিক চিলিং সেন্টারের মাধ্যমে এই দুধ সংগ্রহ ও শীতলীকরণ করে দেশের রাজধানী শহরে পাঠায়। অধিকাংশ খামারির পরিবার দুধ উৎপাদন ও বিক্রির আয়ের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু অর্ধেক খামারি নিরক্ষর। তাই খামার মালিকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এই মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে শনিবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে শতাধিক খামারি গরু ও ছাগল নিয়ে হাজির হয়। প্রদর্শনীতে খামারি ও মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের গবাদি পশু পালনে নানা ধরনের কলা কৌশল ও রোগ বালাই মুক্ত রাখতে বিভিন্ন পদ্ধতি শেখানো হয়।

Friday, June 4, 2021

ফরিদপুরে ট্রাক উল্টে ধান কাটা শ্রমিক নিহত

ফরিদপুরে ট্রাক উল্টে ধান কাটা শ্রমিক নিহত

 


ফরিদপুর প্রতিনিধি

পাবনার ফরিদপুরে ট্রাক উল্টে রাজীব আহমেদ (২৭) নামে এক ধান কাটার শ্রমিক নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিএলবাড়ি ইউনিয়নের জন্তিহার গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাজিব নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা।এসময় ট্রাকে থাকা আরও ৭ শ্রমিক আহত হয়। 



প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজিব সহ ১০/১২ জন শ্রমিক সিরাজগঞ্জ জেলার মোহনপুরে গত ১৫ দিন ধরে বোরো ধান কাটে। এসব শ্রমিকরা ধান কাটার পারিশ্রমিক হিসেবে টাকার পরিবর্তে ধান নেয়। ওই এলাকায় ধান কাটা শেষ হলে শ্রমিকরা একটি ট্রাক ভাড়া করে ধান নিয়ে বড়াইগ্রামের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে মোহনপুর থেকে রওনা হয়। পথিমধ্যে ট্রাকটি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে যায়। ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে রাজিব মারা যান। এসময় ট্রাকে থাকা আরও ৭ জন শ্রমিক আহত হন।


স্থানীয় বাসিন্দা তালহা আবীর জানান, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর গর্তে উল্টে যায়। এলাকাবাসী পানিতে নেমে ট্রাকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করে। তবে এরপরেও এক ব্যক্তি মারা যায়।